ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বৃষ্টির পরও স্বস্তি নেই, ঢাকার বাতাস আবারও অস্বাস্থ্যকর


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:১৮ এএম

টানা ভারী বৃষ্টিতেও রাজধানী ঢাকার বাতাসের মানে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বরং বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার বায়ুদূষণ আবারও অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের ১২২টি নগরীর মধ্যে ঢাকার অবস্থান পঞ্চম। সকাল পৌনে নয়টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান সূচক অনুযায়ী ঢাকার বায়ুর মান ছিল ১৫২, যা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার নিয়মিতভাবে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ ও প্রকাশ করে। তাদের লাইভ সূচক অনুযায়ী, একটি শহরের বাতাস কতটা বিশুদ্ধ বা দূষিত তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়। এই সূচকে ঢাকার বর্তমান অবস্থা নগরবাসীর জন্য উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে।

গত বুধবার রাজধানীজুড়ে টানা ভারী বৃষ্টি হয়েছে। দিনভর বৃষ্টির পর বিকেলের দিকে আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হলেও বাতাসের মান প্রত্যাশিতভাবে উন্নত হয়নি। সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, বৃষ্টির পর শহরের বায়ুদূষণ কমে যায়। কিন্তু চলতি বছরে সেই ধারণা আর সঠিক প্রমাণিত হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টি হলেও বায়ুমণ্ডলে থাকা সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও অন্যান্য দূষণ উপাদান দ্রুত দূর হচ্ছে না, ফলে বায়ুর মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে প্রায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সাধারণভাবে ৪৪ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতকে ভারী বৃষ্টি হিসেবে ধরা হয়। এত বৃষ্টির পরও ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা কমেনি, যা নগরবাসীর জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এর আগে গত রোববার ও মঙ্গলবারও রাজধানীতে বৃষ্টি হয়। মাঝে দুই দিন বিরতির পর আবারও বৃষ্টি শুরু হলেও বাতাসের মান উন্নত হয়নি। এপ্রিল মাসের পর সাধারণত ঢাকার বায়ুর মান কিছুটা ভালো হতে থাকে এবং বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত উন্নতি দেখা যায়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বৃষ্টি হলেও দূষণের মাত্রা স্থায়ীভাবে কমছে না।

আজ বায়ুদূষণের তালিকায় সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে রয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি, যার বায়ুর মান ১৭২। এরপরই রয়েছে ঢাকা। এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলোর জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকার ভেতরে সবচেয়ে বেশি দূষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে গুলশানের বে’জ এইজ ওয়াটার এলাকা, যেখানে বায়ুর মান ১৬৫। এরপর রয়েছে পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ী, গুলশানের গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এলাকা এবং বারিধারার পার্ক রোড।

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞরা নগরবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। আইকিউএয়ারের নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে থাকায় বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি। পাশাপাশি অপ্রয়োজনে বাইরে ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘরের জানালা বন্ধ রেখে বাইরের দূষিত বাতাস প্রবেশ কমানোর কথাও বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু বৃষ্টি বা মৌসুমি পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শিল্প ও যানবাহনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নগর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন না এলে ঢাকার বাতাসের মান স্থায়ীভাবে উন্নত হওয়া কঠিন হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর