নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে দুটি পৃথক মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা হত্যা অভিযোগ সংক্রান্ত ওই দুই মামলায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এই আদেশ দেন আদালত।
বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ জামিন আদেশ দেন। আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু এবং অ্যাডভোকেট এস এম হৃদয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৯ মে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত চুনকা কুটির থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে একাধিক মামলায় দেখানো হয় এবং ধাপে ধাপে বিভিন্ন মামলায় তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়।
পরবর্তীতে হাইকোর্ট তাকে পাঁচটি মামলায় জামিন দেন। তবে সেই জামিন পরবর্তীতে আপিল বিভাগে স্থগিত হয়ে যায়। এরপর ১৮ নভেম্বর তাকে আরও পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে আবারও জামিন প্রদান করা হলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেই জামিনও স্থগিত করা হয়।
এ অবস্থায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন দায়ের করা দুটি পৃথক মামলায়, যেগুলোতে হত্যার অভিযোগ রয়েছে, সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ আদালতে আবেদন করে। ওই আবেদনের পর নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ মার্চ এবং অপর মামলায় ১২ এপ্রিল গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর ধারাবাহিকতায় মামলাগুলো হাইকোর্টে শুনানির জন্য ওঠে। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত বিবেচনা করে তাকে ওই দুটি মামলায় জামিন দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাগুলোর আইনগত দিক, আগের জামিন ও স্থগিতাদেশের বিষয়গুলো বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো জানা যায়নি।
সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি নাম। তিনি একাধিকবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছেন।
বর্তমান জামিন আদেশের ফলে তার আইনগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনগত আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানি এবং আপিল প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে তার ভবিষ্যৎ আইনি পরিস্থিতি।
আইনজীবীরা মনে করছেন, এই ধরনের মামলায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে এবং আপিল বিভাগে আবারও বিষয়টি উঠতে পারে।