ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ রোববার (৩ মে) রাতে অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (২ মে) সংসদ সচিবালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ওইদিন রাত ৯টায় শপথ অনুষ্ঠান শুরু হবে।
সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের লেভেল-১-এ অবস্থিত শপথ কক্ষে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শপথ গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জন প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংরক্ষিত নারী আসনের এসব সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে সংসদের আসন কাঠামো আরও পূর্ণতা পেয়েছে।
বিজয়ীদের তালিকায় রাজনৈতিক দলভিত্তিক বণ্টনে দেখা গেছে, বিএনপির রয়েছেন ৩৬ জন সদস্য। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ১২ জন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। পাশাপাশি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের এই নির্বাচন সংসদের প্রতিনিধিত্বে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নারী নেতৃত্বের বিকাশ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সংবিধান অনুযায়ী এই সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সংসদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। নতুন নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা সংসদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে। বিশেষ করে নারী, শিশু, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং অনুষ্ঠানে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের এই সদস্যরা শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হবেন। তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংসদে নারীর কণ্ঠ আরও জোরালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর