ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৭ দফা দাবি না মানলে আরেকটি বিপ্লব হবে: জামায়াত আমীর আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় সুইজারল্যান্ডে রুমমেটের মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি গ্রেপ্তার আজ থেকে শুরু হচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম মাঝপথেই সফর বাতিল করে দেশে ফিরলেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন রাশিয়ার হামলা রুখতে ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহুকে হটিয়ে বিকল্প সরকার গঠনে আলোচনায় বিরোধীরা তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় বাবার মামলা, বন্ধু দ্বীপ গ্রেপ্তার ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ শুরু

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন ‘ফাইবার অপটিক ড্রোন’ ব্যবহার শুরু হিজবুল্লাহর


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৩ মে, ২০২৬ সময় : ৩:৫৬ পিএম

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে নতুন ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে হিজবুল্লাহ। লেবাননের ভেতরে ইসরায়েলি সেনা ও ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলায় গোষ্ঠীটি এখন ছোট আকারের ‘ফাইবার অপটিক ড্রোন’ ব্যবহার করছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই ড্রোন ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘ফাইবার অপটিক ড্রোন’ যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় এগুলো দ্রুত উৎপাদন ও মোতায়েন করা যায়। একই সঙ্গে প্রচলিত ড্রোনের তুলনায় এগুলো শনাক্ত করা অনেক বেশি কঠিন, যা শত্রুপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ড্রোনগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলোকে সহজে সিগন্যাল জ্যামিং প্রযুক্তির মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা যায় না। সাধারণ ড্রোনগুলো রেডিও সিগন্যাল বা জিপিএসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় জ্যামিংয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। কিন্তু ‘ফাইবার অপটিক’ ড্রোন তারের মাধ্যমে সরাসরি নিয়ন্ত্রিত হয়, ফলে বাইরের কোনো ইলেকট্রনিক বাধা এদের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাইবার অপটিক তারের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকার কারণে এই ড্রোনগুলো অপারেটরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখে। এতে করে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও আঘাত হানার ক্ষেত্রে অনেক বেশি নির্ভুলতা পাওয়া যায়। এমনকি জটিল পরিবেশেও অপারেটর তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হন।

লেবাননের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এই ড্রোন ব্যবহার ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে স্থলযুদ্ধে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে এ ধরনের ড্রোন ব্যবহারের ফলে প্রতিরক্ষা কৌশলে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হতে পারে ইসরায়েল।

এছাড়া এই প্রযুক্তির বিস্তার ভবিষ্যতের যুদ্ধের ধরনকেও বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কম খরচে কার্যকর এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত হওয়ায় এ ধরনের ড্রোন বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘ফাইবার অপটিক ড্রোন’ শুধু একটি নতুন অস্ত্রই নয়, বরং এটি আধুনিক যুদ্ধের কৌশলগত পরিবর্তনের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে থাকলে প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা


এ সম্পর্কিত আরো খবর