ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদের ও আরাফাতসহ ৭ জনের রায় আজ কেন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে? যুদ্ধ শেষে ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ৫০ পেরিয়ে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ গ্রিসে নৌকা ডুবে ১ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, নিখোঁজ ২৫ আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ সৌদির তায়েফসহ ৩ শহরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, আহত ১৩ আট বিভাগেই বৃষ্টির শঙ্কা, অপরিবর্তিত থাকবে দিন-রাতের তাপমাত্রা ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে সিঁড়িতে হুড়োহুড়িতে ঝরল ৬ প্রাণ উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল করলে পরীক্ষকের ২ বছরের জেল

ইরানে সমন্বিত হামলার উদ্যোগে আরব দেশগুলোকে চাপ দিয়েছিল আমিরাত


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৫ মে, ২০২৬ সময় : ৬:০৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর দেশটির বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপ নিতে আরব দেশগুলোকে উদ্বুদ্ধ করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে সৌদি আরব, কাতারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আরব দেশ এই উদ্যোগে সাড়া দেয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

শুক্রবার (১৫ মে) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন আরব দেশের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর মধ্যে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানও ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত আরব জোট গঠন করে যৌথ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া।

তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এ ধরনের সরাসরি সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকেই তারা সতর্ক অবস্থান নেয়।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আরব দেশগুলোর অনীহার কারণে আমিরাতের সঙ্গে কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ওপেক ও ওপেক প্লাস জোট থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে মতপার্থক্য বাড়ায় এই দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত মার্চে সৌদি আরব ইরানে সীমিত আকারে সরাসরি হামলা চালিয়েছিল। তবে পরে পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিলে রিয়াদ সংঘাত থেকে সরে আসে। সৌদি সরকার তখন সামরিক উত্তেজনা না বাড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেয়।

এদিকে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা না পাওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ব্লুমবার্গ আরও জানিয়েছে, ইরানের হামলার শিকার হওয়ার পর কাতারও একসময় পাল্টা হামলার চিন্তা করেছিল। বিশেষ করে কাতারের রাস লাফফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস প্ল্যান্টে হামলার পর দোহায় নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়ে যায়। বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই গ্যাস প্ল্যান্টে হামলার ঘটনায় কাতার প্রথমে কঠোর প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবলেও পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে।

কাতার শেষ পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে এসে কূটনৈতিক পথেই সংকট মোকাবিলার অবস্থান নেয়। মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় যুদ্ধের আশঙ্কা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার বিষয়টি তাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন অবগত ছিল। ওয়াশিংটন চাইছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারও এই জোটভিত্তিক পদক্ষেপে যুক্ত হোক। তবে শেষ পর্যন্ত আরব বিশ্বের অভ্যন্তরীণ মতভেদ এবং কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই তথ্য নতুন করে আঞ্চলিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানকে ঘিরে আরব বিশ্বের ভেতরে বিভক্ত অবস্থান ভবিষ্যতেও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর