বিনোদন প্রতিবেদক:
দেশের শোবিজ অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন গভীর শোকের ছায়া। তরুণ প্রজন্মের তুমুল জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও উদীয়মান অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের আকস্মিক মৃত্যুতে স্তব্ধ বিনোদন দুনিয়া। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন এখন এক একটি শোকবইয়ে পরিণত হয়েছে। সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তদের অনেকেই কারিনার সাথে কাটানো বিভিন্ন প্রাণবন্ত মুহূর্তের স্মৃতি ও ছবি শেয়ার করে আবেগঘন পোস্ট দিচ্ছেন। সবাই এখন অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষায় আছেন শেষবারের মতো প্রিয় এই অভিনেত্রীকে দেখতে।
ভারতের চেন্নাই থেকে কারিনার মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে কথা হয় তাঁর বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, আজ শনিবার (১৬ মে) তাঁর মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে না। সমস্ত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে আগামীকাল রোববার (১৭ মে) তাঁর মরদেহ চেন্নাই থেকে ঢাকায় আনা হবে। আজ সকালে কায়সার হামিদ বলেন, ‘মরদেহ প্রিজার্ভ (সংরক্ষণ)-সংক্রান্ত বেশ কিছু অফিশিয়াল ও জরুরি বিষয় আছে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে আজ বেলা ৩টার ফ্লাইট ধরা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই আগামীকাল রোববারের ফ্লাইটে চেন্নাই থেকে ঢাকায় আসবে ওরা।’
দীর্ঘদিন ধরে লিভার-সংক্রান্ত তীব্র জটিলতায় ভুগে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেছেন অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর গতকাল শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। গতকাল দিবাগত রাতেই প্রথম আলোর কাছে মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা কায়সার হামিদ। তিনি বলেন, ‘ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ ওর ব্লাড প্রেশার অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চেন্নাইয়ের ডাক্তাররা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার মেয়েটাকে আর বাঁচানো গেল না।’ মৃত্যুর সময় কারিনার বয়স হয়েছিল মাত্র ৩০ বছর। তিনি মা-বাবা ও দুই ভাইসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বাংলাদেশের বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদ তাঁর আপন দাদি।
পারিবারিক সূত্র জানায়, লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় বেশ কয়েক দিন ধরে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি অভিজাত বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাঁকে। পরে উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে গত সোমবার রাতে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে অত্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকেরা প্রথমে তাঁর ফুসফুসের ইনফেকশনের চিকিৎসা শুরু করেছিলেন এবং এরপর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের (যকৃৎ প্রতিস্থাপন) জোর প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু সব প্রস্তুতি ভেস্তে দিয়ে ওপারে পাড়ি জমালেন কারিনা। পরিবার জানায়, প্রথমে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তাঁর শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তাঁর লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মূলত কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে মূলধারার অভিনয় ও চমৎকার চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ নানা কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাঁকে বিপুল জনপ্রিয় করে তোলে। পরে ওটিটি ও নাটকের জগতেও ধীরে ধীরে নিজের শক্ত জায়গা তৈরি করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন দারুণ মুন্সিয়ানায়। তাঁর উল্লেখযোগ্য ও দর্শকপ্রিয় কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ এবং ‘৩৬-২৪-৩৬’।