বিনোদন ডেস্ক
বলিউডের জনপ্রিয় মেগাস্টার ভাইজান সালমান খান গত রবিবার নিজের অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি শার্টহীন বা উন্মুক্ত গায়ের ছবি পোস্ট করে পুরো নেট দুনিয়ায় রীতিমতো আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। ছবিতে প্রবীণ এই অভিনেতার সুঠাম, মেদহীন আর অবিশ্বাস্য পেশিবহুল শরীর দেখে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তরা যেন চোখের পলক ফেলতে পারছেন না। তবে ছবির ক্যাপশনে তিনি কেবল শরীরচর্চার কথা না লিখে, একা থাকা আর নিঃসঙ্গ হওয়ার মধ্যে এক গভীর জীবন দর্শনের কথা তুলে ধরেছেন। সালমানের মতে, নিজের স্বাধীন ইচ্ছায় একা থাকা আর জীবনে কেউ পাশে না থাকায় নিঃসঙ্গ বোধ করার মধ্যে আকাশ-পাতাল মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তবে সাধারণ ভক্তরা তার এই গভীর দার্শনিক কথাকে একপাশে সরিয়ে রেখে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ৬০ বছর বয়সেও তার এই অতিমানবীয় ও অবিশ্বাস্য ফিটনেস নিয়ে তুমুল মাতামাতি করতে।
নিজের দুই হাত দুই দিকে প্রসারিত করা সেই সুগঠিত পেশিবহুল শরীরের ছবি দিয়ে সালমান খান ভক্তদের উদ্দেশে এক রহস্যময় বার্তা দিয়েছেন। তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, একা থাকাটা আসলে নিজের মনের একটা ব্যক্তিগত পছন্দ, আর নিঃসঙ্গতা হলো যখন কেউ আপনার পাশে থাকতে চায় না। এর বাইরে বাকি অংশটা তিনি সবাইকে যার যার মতো করে বুঝে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ভাইজানের এই অবিশ্বাস্য ছবি দেখে মন্তব্য করার ঘরে প্রশংসার জোয়ার বইয়ে দিচ্ছেন নেটিজেনরা। এক ভক্ত লিখেছেন, বাস্তবের এই আসল যোদ্ধার অনুরাগী হতে পেরে তিনি আজ দারুণ গর্বিত। অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, এত বছর ধরে ছবি পোস্ট করলেও সালমানের নিজস্ব স্টাইল আর চেহারা একদম আগের মতোই তরুণ রয়ে গেছে। একজন নেটিজেন আবার রসিকতা করে বলেছেন, ৬০ বছর বয়সে এসেও সালমান তার এই স্টিলথ মেশিনের মতো বডি দিয়ে সব সমালোচকদের মুখ চিরতরে বন্ধ করে দিচ্ছেন। ভারতের আসল বডিবিল্ডিং আইকন যে আজও কেবল সালমান খান, সেই সত্যটিই যেন বারবার প্রতিধ্বনি হচ্ছে সবার মন্তব্যে।
এই ঈর্ষণীয় ফিটনেস ধরে রাখতে সালমান প্রতিদিন অত্যন্ত কড়া এবং বৈজ্ঞানিক নিয়মকানুন মেনে চলেন। তার ব্যক্তিগত ফিটনেস ট্রেইনার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সালমান খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে কার্ডিও ব্যায়াম সম্পন্ন করেন। এরপর সারা দিন যখনই সুযোগ মেলে, তিনি ভারোত্তোলন বা ওয়েট ট্রেনিং নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সপ্তাহে টানা ছয় দিন জিমে ঘাম ঝরানোর এই রুটিন তিনি কখনোই মিস করেন না। সামনে আসছে সালমানের নতুন সিনেমা ‘মাতৃভূমি’, আর সেটির চরিত্রের প্রয়োজনেই তিনি এখন লাদাখের কঠিন ও প্রতিকূল পাহাড়ে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। জানা গেছে, পাহাড়ি উচ্চতায় ভারী জিমের সরঞ্জাম নেওয়া অত্যন্ত কঠিন বলে তিনি কেবল নিজের শরীরের ওজন ব্যবহার করে ‘ক্যালিসথেনিকস’ নামের বিশেষ ব্যায়াম করছেন। লাদাখের তীব্র ঠান্ডায় ৪৫ দিনের সেই হাড়ভাঙা খাটুনিই তাকে নতুন করে এমন টগবগে অগ্নিঝরা রূপ দান করেছে।
বিদেশি সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর তথ্য অনুসারে, আসন্ন এই যুদ্ধভিত্তিক সিনেমাটি নিয়ে এখন চলছে নানা কাটাছেঁড়া আর গল্পে বড় পরিবর্তন। সিনেমার নাম আগে ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ থাকলেও এখন কৌশলগত কারণে তা বদলে রাখা হয়েছে ‘মাতৃভূমি’। গালওয়ান উপত্যকা বা চীন-সংক্রান্ত সব সংবেদনশীল তথ্য সিনেমা থেকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে নতুন করে আবার পুরোদমে শুটিং শুরু করেছে সিনেমার পুরো টিম।
ঢাকা টুডে / আরজে