ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

মূল আসামি সাইফুল ঢাকা থেকে গ্রেফতার

ঘাটাইলে বৃদ্ধা আনোয়ারা হত্যার রহস্য উন্মোচন


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৩ মে, ২০২৬ সময় : ৬:৪৪ পিএম

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নে বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগমকে নির্মমভাবে হত্যা মামলার মূল ঘাতক মোঃ সাইফুল ইসলাম (৪২) কে অবশেষে গ্রেফতার করেছে ঘাটাইল থানা পুলিশ। সুদূর রাজধানী থেকে গ্রেফতারের পর বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে আসামি এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

ঘাটাইল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে দেউলাবাড়ি এলাকার নিজ বাড়িতে একা একা বসবাস করছিলেন আনোয়ারা বেগম। একা থাকলেও ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত সুসম্পর্ক ও যোগাযোগ ছিল এবং পরিবারের সদস্যরা প্রতিনিয়ত তাঁর দেখভাল ও খোঁজখবর নিতেন। ঘটনার আগের দিন পর্যন্তও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর স্বাভাবিকভাবে শেষ কথা হয়। তবে পরদিন সকাল থেকে তাঁর ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া গেলে পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এরপর আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় প্রতিবেশীদের নিয়ে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে কোনো উপায় না পেয়ে বিষয়টি ঘাটাইল থানা পুলিশকে জানানো হলে থানায় একটি নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

নিখোঁজের ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে চারদিকে ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট বিকেলে দেউলাবাড়ি এলাকার একটি জনমানবহীন নির্জন বাঁশঝাড় সংলগ্ন পরিত্যক্ত কূপের গভীর ভেতর থেকে অর্ধনগ্ন ও বীভৎস অবস্থায় বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই পৈশাচিক ঘটনাটি সে সময় পুরো টাঙ্গাইল এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শোক, আতঙ্ক ও তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

মরদেহ উদ্ধারের পর এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে ঘাটাইল থানা পুলিশ। স্থানীয় গোপন তদন্ত, উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত সন্দেহে মোঃ সাইফুল ইসলামকে শনাক্ত করা হয়। তবে ঘটনার পর থেকেই সুচতুর সাইফুল এলাকা ছেড়ে সম্পূর্ণ পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতারে দেশের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছিল।

অবশেষে টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ পুলিশ সুপারের বিশেষ দিকনির্দেশনায় এবং গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোকছেদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি চৌকস ও দক্ষ টিম গঠন করা হয়। ওই টিমের সাহসী সদস্য এসআই রাজু আহমেদ, মামলার মূল তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজিম উদ্দিন, এএসআই আমিনুল ও কনস্টেবল ওয়াজেদ সর্বাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট সহায়তায় এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে গত ২২ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর হাতিরঝিল থানা এলাকা থেকে পলাতক সাইফুল ইসলামকে সফলভাবে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও আসামি চুরির উদ্দেশ্যে একা পেয়ে বৃদ্ধাকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ কূপে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেছে। এই মূল আসামির গ্রেফতার ও আদালতে স্বীকারোক্তিতে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর