ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কোরবানির পশু কেনার আগে কী দেখবেন?


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৭ মে, ২০২৬ সময় : ২:৪৭ এএম

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পশুটি সুস্থ ও শরিয়তসম্মত কি না তা নিশ্চিত করা। অসুস্থ, প্রতিবন্ধী বা গুরুতর শারীরিক ত্রুটিযুক্ত পশু কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে পশু কেনার আগে ক্রেতাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর গাবতলীর পশুর হাটে কুষ্টিয়া থেকে আসা দীর্ঘদিনের পশু ব্যবসায়ী হেলাল প্রামাণিক, রফিক মোল্লা ও রিপন প্রামাণিকের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, কোরবানির পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পশুর স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক আচরণ পর্যবেক্ষণ করা।

হেলাল প্রামাণিক প্রায় ৩৫ বছর ধরে পশু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানান, সাধারণত দুই বছর কয়েক মাস বয়স হলে একটি গরু কোরবানির উপযোগী হয়। এই বয়সে গরুর দুটি দাঁত গজায়, যা দেখে অনেক অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী ও ক্রেতা নিশ্চিত হন পশুটি কোরবানির জন্য উপযুক্ত কি না।

তিনি বলেন, “দুই দাঁত উঠলে বোঝা যায় গরুটি কোরবানির বয়সে পৌঁছেছে।” তবে তিনি আরও জানান, অনেক ক্রেতা ওজন দেখে পশু কেনেন, আবার অনেকে শুধু বাহ্যিক গঠন ও স্বাস্থ্য দেখে পছন্দ করেন। অভিজ্ঞ ক্রেতারা আগেই আন্দাজ করতে পারেন কোন পশুর ওজন কত হতে পারে।

অন্যদিকে রফিক মোল্লা, যিনি প্রায় ২০ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তিনি বলেন, পশু যদি অসুস্থ হয় তাহলে সাধারণত সেটি দাঁড়াতে চায় না বা বেশি সময় শুয়ে থাকে। এমনকি অস্বাভাবিকভাবে লালা ঝরাও একটি লক্ষণ হতে পারে।

তার ভাষায়, “অসুস্থ পশু সাধারণত চঞ্চল থাকে না। শুয়ে থাকে বা উঠতে চায় না। এসব লক্ষণ দেখেই বোঝা যায় পশুটি সুস্থ নয় কি না।”

তিনি আরও বলেন, পরিবহনের সময় পশুর শরীরে ছোটখাটো আঁচড় বা চামড়া ছুলে যাওয়া কোরবানির ক্ষেত্রে সমস্যা নয়। তবে জন্মগত ত্রুটি, বড় ধরনের ক্ষত বা গুরুতর শারীরিক সমস্যা থাকলে সেই পশু কোরবানির জন্য উপযুক্ত নয়।

রিপন প্রামাণিক, যিনি ২৫ বছর ধরে পশু ব্যবসায় যুক্ত, তিনি বলেন, কোরবানির পশু হতে হবে সুন্দর, পরিষ্কার এবং নিখুঁত। তিনি জানান, সুস্থ পশুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো স্বাভাবিক চলাফেরা, উজ্জ্বল চোখ এবং সক্রিয় আচরণ।

তিনি বলেন, “সচেতনভাবে দেখলে পশুর অসুস্থতা বা ত্রুটি বোঝা যায়। জন্মগত ত্রুটি, বড় দাগ বা শারীরিক সমস্যা থাকলে সেই পশু কেনা উচিত নয়।”

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, অনেক সময় অসচেতন ক্রেতারা শুধু আকার বা দামের দিকে নজর দেন। তবে কোরবানির ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পশুর স্বাস্থ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তারা পরামর্শ দেন, হাটে গিয়ে পশু কেনার আগে অন্তত কিছু সময় পর্যবেক্ষণ করা উচিত। পশুর দাঁত, হাঁটার ধরন, চোখের চাহনি, শরীরের গঠন এবং আচরণ ভালোভাবে দেখে নেওয়া দরকার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ পশুর চোখ উজ্জ্বল থাকে, নাক পরিষ্কার থাকে এবং শরীরে অতিরিক্ত দুর্বলতা থাকে না। এছাড়া পশু স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতে ও হাঁটতে সক্ষম হয়।

ব্যবসায়ীরা মনে করেন, সচেতন ক্রেতা হলে প্রতারণা বা ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। তাই কোরবানির পশু কেনার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞদের পরামর্শ অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর