ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কেন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে? যুদ্ধ শেষে ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ৫০ পেরিয়ে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ গ্রিসে নৌকা ডুবে ১ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, নিখোঁজ ২৫ আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ সৌদির তায়েফসহ ৩ শহরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, আহত ১৩ আট বিভাগেই বৃষ্টির শঙ্কা, অপরিবর্তিত থাকবে দিন-রাতের তাপমাত্রা ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে সিঁড়িতে হুড়োহুড়িতে ঝরল ৬ প্রাণ উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল করলে পরীক্ষকের ২ বছরের জেল সক্ষমতার অর্ধেক উৎপাদনে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাড়ছে লোডশেডিং

৪৮ দলের মহাআয়োজন:

২০২৬ বিশ্বকাপে ভেঙে যেতে পারে যে ৫টি ঐতিহাসিক রেকর্ড


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৬ জুন, ২০২৬ সময় : ৭:১৮ পিএম

খেলা ডেস্ক: ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র ৬ দিন। এবারই প্রথম ৩২ দলের বদলে খেলবে ৪৮টি দল। ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে বেড়ে হচ্ছে ১০৪। যুক্ত হচ্ছে ‘রাউন্ড অব ৩২’ বা ৩২ দলের নকআউট পর্ব। ম্যাচ বাড়ায় খেলোয়াড় ও কোচদের সামনে রেকর্ড গড়ার সুযোগও বাড়ছে। ফুটবল বিশ্বকাপের অনেক পুরোনো রেকর্ড এবার নতুন করে লেখা হতে পারে। এর মধ্যে যে পাঁচটি রেকর্ড হুমকির মুখে, সেসবই দেখে নেওয়া যেতে পারে আগেভাগে।

১. সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ী কোচ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৬টি ম্যাচ জেতার রেকর্ড জার্মানির হেলমুট শনের। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে টানা ৪টি বিশ্বকাপে ২৫টি ম্যাচের ডাগআউটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। শনের অধীনে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি একবার চ্যাম্পিয়ন, একবার রানার্সআপ ও একবার তৃতীয় হয়। সব মিলিয়ে জেতেন ১৬টি ম্যাচ। এবার শনের বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। ফরাসিদের হয়ে ১৯ ম্যাচে তাঁর জয় ১৪টি। এবারের আসরে ফ্রান্সের গ্রুপে আছে নরওয়ে, সেনেগাল ও ইরাক। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে ফ্রান্সের অন্তত দুটি ম্যাচ জেতারই কথা, সে ক্ষেত্রে গ্রুপ পর্বেই শনকে ছুঁয়ে ফেলবেন দেশম। আর বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট দল হিসেবে শেষ বত্রিশে ফ্রান্সের জয় তো দেশমের আশা করারই কথা। আর তা হলে ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী এই সাবেক ফুটবলারই হয়ে যাবেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি ম্যাচজয়ী কোচ।

২. এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোল কাতার বিশ্বকাপে ৬৪ ম্যাচে গোল হয়েছিল রেকর্ড ১৭২টি। ম্যাচপ্রতি গড় গোল ছিল ২.৬৯। এবার ম্যাচের সংখ্যা ১০৪টি। তাই মোট গোলের রেকর্ড ভাঙা বলা যায় সময়ের ব্যাপার। যদি ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের মতো অতি রক্ষণাত্মক এবং ইতিহাসের সবচেয়ে কম গোল হওয়া আসরের গড়ও (ম্যাচপ্রতি ২.২১ গোল) এবার বজায় থাকে, তাহলেও মোট গোল হওয়ার কথা ২৩০টি। সুতরাং এক আসরে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডে ২০২৬–এর নাম উৎসাহীরা এখনই লিখে নিতে পারেন।

৩. চল্লিশোর্ধ্ব ফুটবলারদের রেকর্ড বিশ্বকাপ হয়েছে এখন পর্যন্ত ২২ বার, তাতে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড় দেখা গেছে মাত্র ৭ জন। এবার এক আসরেই চল্লিশ পার করা খেলোয়াড় দেখা যাবে ৮ জন! তালিকায় আছেন পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৪১), জার্মানির মানুয়েল নয়ার (৪০), বসনিয়ার এদিন জেকো (৪০), স্কটল্যান্ডের ক্রেইগ গর্ডন (৪৩), ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ (৪০), উরুগুয়ের ফার্নান্দো মুসলেরা (৪০) ও মেক্সিকোর গুইলার্মো ওচোয়া (৪০)। তাঁদের মধ্যে মাত্র দুজন খেলোয়াড়ও যদি এক মিনিটের জন্য মাঠে নামেন, তবেই এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ‘চল্লিশোর্ধ্ব’ খেলোয়াড় খেলার নতুন রেকর্ড তৈরি হবে।

৪. সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা: মিরোস্লাভ ক্লোসা (জার্মানি, ১৬ গোল) জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডটিও হুমকির মুখে। এই রেকর্ড ভাঙার মূল দাবিদার লিওনেল মেসি (১৩ গোল) ও কিলিয়ান এমবাপ্পে (১২ গোল)। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৮), হ্যারি কেইন (৮) ও নেইমারের (৮) সম্ভাবনা থাকলেও তাঁদের সঙ্গে ক্লোসার গোলের ব্যবধান অনেক বেশি। মেসি বিশ্বকাপ চলাকালীন ৩৯ বছরে পা দেবেন। অন্যদিকে এমবাপ্পের বয়স মাত্র ২৮। ফলে মেসি যদি এবার রেকর্ড ভেঙেও ফেলেন তবু এমবাপ্পের সামনে পরেও রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে ফরাসি ফরোয়ার্ড রেকর্ডটা করে ফেলতে পারেন এবারও! গত বিশ্বকাপে এমবাপ্পে টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৮টি গোল করেছিলেন। সেবার মেসি করেছেন ৭টি। দুজনের একজনও যদি গতবারের অর্ধেক গোল করতে পারেন, ক্লোসার রেকর্ডটি এবারই ভেঙে যাবে।

৫. সর্বকনিষ্ঠ গোল্ডেন বুট বিজয়ী: টমাস মুলার (জার্মানি, ২০১০ বিশ্বকাপ—বয়স ২০ বছর) ২০১০ বিশ্বকাপে মাত্র ২০ বছর বয়সে ৫ গোল করে জার্মানির টমাস মুলার জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। এবার এই রেকর্ড কেড়ে নেওয়ার সম্ভাবনা আছে কয়েকজনের। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম স্পেনের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার স্পেনের ২০২৪ ইউরো জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। ইয়ামাল ছাড়াও জার্মানির ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার লেনার্ট কার্ল এবং ব্রাজিলের ১৯ বছর বয়সী এনদ্রিকের সামনেও সুযোগ রয়েছে মুলারের ২০ বছরের রেকর্ড ভাঙার। গোলের পাশাপাশি তাদের সামনে সবচেয়ে কম বয়সে গোল্ডেন বল জেতার সুযোগও থাকছে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপেও ২১ বছর বয়সে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটি জিতেছিলেন ব্রাজিলের রোনালদো। তাঁর রেকর্ডটিও ভেঙে দিতে পারেন ইয়ামাল বা তাঁর মতো কেউ।

সূত্র : এএফপি, রয়টার্স


এ সম্পর্কিত আরো খবর