ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদের ও আরাফাতসহ ৭ জনের রায় আজ কেন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে? যুদ্ধ শেষে ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ৫০ পেরিয়ে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ গ্রিসে নৌকা ডুবে ১ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, নিখোঁজ ২৫ আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ সৌদির তায়েফসহ ৩ শহরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, আহত ১৩ আট বিভাগেই বৃষ্টির শঙ্কা, অপরিবর্তিত থাকবে দিন-রাতের তাপমাত্রা ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে সিঁড়িতে হুড়োহুড়িতে ঝরল ৬ প্রাণ উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল করলে পরীক্ষকের ২ বছরের জেল

সক্ষমতার অর্ধেক উৎপাদনে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাড়ছে লোডশেডিং


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:০০ এএম

দেশে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হলেও কারিগরি ত্রুটি নানাবিধ সংকটে মিলছে না পূর্ণ সক্ষমতার বিদ্যুৎ। রামপাল, পায়রা বড়পুকুরিয়াসহ প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে একের পর এক যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও বর্তমানে মিলছে গড়ে মাত্র সাড়ে হাজার মেগাওয়াট। এর ফলে বিদ্যুৎ সংকট ঘনীভূত হচ্ছে এবং সোমবার বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি গিয়ে দাঁড়ায় হাজার ৬৮৬ মেগাওয়াটে।

 

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট সক্ষমতা হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। রবিবারে বেলা ১১টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে কেবল প্রথম ইউনিটটি চালু রয়েছে, যা থেকে সোমবার বিকেলে জাতীয় গ্রিডে ৬৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম জানিয়েছেন, বন্ধ হওয়া দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু হতে আরও অন্তত তিন দিন সময় লাগতে পারে। তবে কী ধরনের কারিগরি ত্রুটি হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি। এর আগেও কয়লা সরবরাহে ঘাটতি থাকায় কেন্দ্রটির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল।

 

একইভাবে পটুয়াখালীর পায়রা আরএনপিএল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন। হাজার ২৪৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রায় দুই মাস ধরে উৎপাদন কম রয়েছে, যেখানে বর্তমানে মিলছে প্রায় ৫৮০ মেগাওয়াট। অন্যদিকে সমান সক্ষমতার আরএনপিএল কেন্দ্র থেকে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটেও কারিগরি ত্রুটি বিদ্যমান থাকায় ৪৪৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

 

ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের হাজার ৪৩৬ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটি থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহে ওঠানামা চলছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে কারিগরি ত্রুটিতে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে সরবরাহ ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়। পরে ত্রুটি সারিয়ে সোমবার বিকেল ৫টায় সেখান থেকে হাজার ১৯৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তবে ইতিবাচক বিষয় হলো, কক্সবাজারের মাতারবাড়ি কেন্দ্র হাজার ১৫০ মেগাওয়াট এবং চট্টগ্রামের এসএস পাওয়ার হাজার ২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পূর্ণমাত্রায় চালু রয়েছে।

 

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে দেশে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭৪৮ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে ঘাটতি ছিল হাজার ৬৮৬ মেগাওয়াট। বিদ্যুতের এই ঘাটতির নেপথ্যে গ্যাসের সরবরাহ সংকটও বড় ভূমিকা রাখছে। পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়ে দৈনিক হাজার ৩৭৫ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ালেও ৭২টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৪২টিতে প্রয়োজনীয় গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। এসব কেন্দ্রে হাজার ৫২৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮৮১ মিলিয়ন ঘনফুট, যার ফলে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোকেও পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর