দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৩ জন রোগী। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, নতুন আটজনের মৃত্যু নিয়ে চলতি ২০২৬ সালে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৬ জনে। মাসভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বছরের শুরু থেকেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। তবে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৩ দিনেই মৃত্যুর রেকর্ড সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে; এ সময়েই মারা গেছেন ৬০ জন। এর আগে আগস্ট মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া জুলাই মাসে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং বছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছিল।
বুলেটিনে জানানো হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৭৩৩ জন নতুন রোগীর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। নতুন রোগীদের নিয়ে চলতি বছরে সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৫৭০ জনে। তবে আক্রান্তের পাশাপাশি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার হারও আশাব্যঞ্জক। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের হাসপাতালগুলো থেকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ২৮২ জন রোগী। এ নিয়ে চলতি বছরে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক ডেঙ্গু রোগীর তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বরাবরের মতোই ঢাকা বিভাগে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। ঢাকা বিভাগে একদিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭০১ জন রোগী। ঢাকা বিভাগের পরই খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে; এ বিভাগে ৩০২ জন নতুন আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৯১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০ জন, রংপুর বিভাগে ৮৬ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৪৫ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নগরবাসীকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি মশারি ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছে।