ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

চিকিৎসা অবহেলা ও দুই লাখ টাকার বিল

রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:৪১ এএম

রাজধানীর ধানমন্ডির বীর উত্তম সিআর দত্ত রোডে অবস্থিত ‘পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল’-এ চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও অবহেলার কারণে ৯ মাসের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) কোনো দায়িত্বরত চিকিৎসক উপস্থিত না থাকা এবং চিকিৎসার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে শিশুটির এক স্বজন ফেসবুকে লাইভ শুরু করলে বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

 

নিহত শিশুটির স্বজন আসিফ হাসানের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, গত ১ সেপ্টেম্বর সামান্য শারীরিক অসুস্থতা ও রক্তে সুগার কমে যাওয়ার সমস্যা নিয়ে শিশুটিকে রাজধানীর পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ভর্তির পর থেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকেরা প্রতিদিন শিশুটির চিকিৎসার নামে নতুন নতুন শারীরিক জটিলতার কথা স্বজনদের জানাতে থাকেন। টানা প্রায় দুই সপ্তাহ চিকিৎসা চলার পর রোববার সকালে স্বজনদের জানানো হয়েছিল যে, শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে এবং পরদিন সোমবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

 

তবে রোববার বিকেল গড়াতেই হঠাৎ করেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সুর বদলে যায়। পরিবারকে জানানো হয় যে, শিশুটির শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছে এবং তাকে দ্রুত লাইফ সাপোর্টে নেওয়া প্রয়োজন। এ কথা শুনে আশঙ্কিত স্বজনেরা লাইফ সাপোর্টে থাকা শিশুটিকে নিজ চোখে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বরত কর্মীরা পরিবারের সদস্যদের পিআইসিইউ-এর ভেতরে প্রবেশ করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং নানা অজুহাতে তাদের বাইরে আটকে রাখার চেষ্টা করে।

 

পরবর্তীতে স্বজনেরা অন্যায়ভাবে বাধা দেওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে বাধ্য হয়ে জোরপূর্বক পিআইসিইউ-এর ভেতরে প্রবেশ করেন। কিন্তু সেখানে ঢুকে তারা যে দৃশ্য দেখতে পান তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। স্বজনেরা দেখেন, ৯ মাসের শিশুটি নিথর অবস্থায় বেডে পড়ে আছে এবং পিআইসিইউ-তে কোনো দায়িত্বরত চিকিৎসক উপস্থিত নেই। আসিফ হাসানের অভিযোগ, তারা পিআইসিইউ-এর ভেতর দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি ও খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা কোনো চিকিৎসক বা নার্সের দেখা পাননি। শিশুটি বহু আগেই মৃত্যুবরণ করলেও কেবল অতিরিক্ত বিল বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর বিষয়টি স্বজনদের কাছে গোপন রেখেছিল বলে তারা গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

 

আসিফ হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি জানান, চিকিৎসায় চরম অবহেলা সত্ত্বেও পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটির স্বজনদের হাতে দুই লাখ টাকারও বেশি অঙ্কের একটি বিশাল বিল ধরিয়ে দিয়েছে। লাইভ শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। তার অভিযোগ, ফেসবুকে লাইভ প্রচার করার অপরাধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কয়েকজন বহিরাগত লোক এসে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায় এবং শাসানোর চেষ্টা করে।

 

ঘটনার খবর পেয়ে পরবর্তীতে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বা হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য কিংবা স্পষ্টীকরণ পাওয়া সম্ভব হয়নি। শিশুটির অকাল মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় ঠিক কতটা অবহেলা বা গাফিলতি করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো স্বতন্ত্র নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর