ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

  • আপলোড সময় : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৬:৪৮ পিএম

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অতীত ১৫ বছরের ধারাবাহিকতা থেকে বের হয়ে সম্পূর্ণ নতুনভাবে শুরু (রিসেট) করার বার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অতীত নির্ভরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে একটি সমতাভিত্তিক নতুন কূটনৈতিক ধারায় হাঁটতে চায়। আর সেই লক্ষ্যেই ভারতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কোনো দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত, বহুপক্ষীয় সম্মেলনের মাধ্যমে তা হওয়া সমীচীন নয়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা তুলে ধরেন তিনি।


সংবাদ ব্রিফিংকালে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি পুনর্নিরীক্ষণ বা পর্যালোচনার বিষয়ে চিফ হুইপের দেওয়া তথ্যের প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, ওইসব চুক্তি বর্তমানে প্রয়োজনীয় সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সার্বিকভাবে যাচাই-বাছাই এবং বিশদ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিষয়টি চিফ হুইপের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় তিনি এ বিষয়ে আরও নিখুঁত ও সঠিক উত্তর প্রদান করতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির।


হুমায়ুন কবির ব্রিফিংয়ে আরও জানান, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্ব সংস্থার এই উচ্চপর্যায়ের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ প্রদানের পাশাপাশি এবার সাইডলাইনে বৈশ্বিক রোহিঙ্গা সংকট ও সমাধান নিয়ে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের কড়া জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আপনাদের এই প্রশ্নটি সঠিক হয়নি। ভারত নিয়ে মোহ বা অন্ধ মুগ্ধতা (ফ্যাসিনেশন) থেকে সবার আগে বের হয়ে আসুন। ভারত কেবল আরেকটি প্রতিবেশী দেশ, যার সঙ্গে আমরা একটি ভালো ও টেকসই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চাই। সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার—সব সময় খালি ভারতের কথা ভাবলে চলবে না, সবার আগে নিজের দেশের স্বার্থের কথা ভাবুন। যার সঙ্গে যখন দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক কথা বলা দরকার, আমরা অবশ্যই তা স্পষ্টভাবে বলব। তবে কোনো সম্মেলনের সাইডলাইনে সবার সঙ্গে দেখা করা বাস্তবসম্মত নয়। এবারের নিউইয়র্ক সফরে আমাদের অনেক দেশের নিমন্ত্রণ থাকবে এবং একাধিক দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হবে।’


এদিকে আগামী জানুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক পদের নির্বাচন এবং সম্প্রতি এই পদ থেকে সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ নতুন কোনো প্রার্থী সমর্থন করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো এত বড় একটি আঞ্চলিক পদে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিয়োগটিই ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত। এমন একটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও উচ্চপর্যায়ের পদের জন্য তাঁর প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বা পেশাগত দক্ষতা কিছুই ছিল না। একটি স্বৈরাচারী সরকার স্রেফ নজিরবিহীন স্বজনপ্রীতি করে তাঁকে সেই পদে বসিয়েছিল। তৎকালীন শেখ মুজিব পরিবারের দুর্নীতি ও জালিয়াতির খবর এখন একটির পর একটি উন্মোচিত হচ্ছে। সুতরাং তাঁর এই নিয়োগ নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া মোটেও বিস্ময়কর নয়। স্বৈরাচারী আমলে চরম জালিয়াতি, তথ্য গোপন ও সরকারি প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে আন্তর্জাতিক ওই পদে বসানো হয়েছিল।


দুর্নীতির গন্ধ কখনো গোপন রাখা যায় না মন্তব্য করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্নীতির গন্ধ একসময় প্রকাশ পাবেই। শেখ মুজিব পরিবারের দুর্নীতির দুর্গন্ধ এখন এতটাই স্পষ্ট যে সাধারণ মানুষ সব জায়গায় তা সহজেই চিনতে পারছে। সুতরাং কোনো যোগ্যতা ছাড়া কেবল বিশেষ রাজপরিবার বা রাজনৈতিক প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়া এবং তৎকালীন তথাকথিত প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় বিশ্বমঞ্চের এই পদ বাগিয়ে নেওয়া কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়।


আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দায়িত্বহীনতার সমালোচনা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, যোগ্যতাহীন ব্যক্তিকে এমন পদে বসানো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্যও চূড়ান্ত লজ্জাজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো স্পর্শকাতর সংস্থাকে হাস্যকর বানিয়ে ফেলা মোটেও ঠিক হয়নি—যে সংস্থাটি বৈশ্বিক কোভিড মহামারির সময় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছিল। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উচিত তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও বেশি কঠোর, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করা। যারা দুর্নীতি ও নানা বিতর্কের সাথে জড়িত, তাদের এসব আন্তর্জাতিক সংস্থায় রাখা উচিত নয়, কারণ এতে বিশ্বমঞ্চে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়।


ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পদের নির্বাচনে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করে হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে সঠিক যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করবে। এ ক্ষেত্রে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেমন মালদ্বীপের প্রার্থীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে, যাঁর চমৎকার ট্র্যাক রেকর্ড ও আন্তর্জাতিক যোগ্যতা রয়েছে। আগামীতে আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি সৎ ও দক্ষ নেতৃত্বের হাতেই পরিচালিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর