শেরপুর প্রতিনিধি:
বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, ফ্যাসিস্টরা যদি আরও দু-তিন বছর ক্ষমতায় থাকত, তাহলে বাংলাদেশ সিকিম হয়ে যেত। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা যেভাবে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে গেছেন, সেখান থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম ও কৃতকর্মের কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা দেশ থেকে ভারতে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনা থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতে দেশের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় দেশের সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করে নিজেদের ইচ্ছামতো নির্দেশনা দিয়ে কাজ করানো হতো। এর ফলে দীর্ঘ সময় দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। পাশাপাশি হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের কারণে দেশ পিছিয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সনে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি এবং ২০২৪ এ আমরা সার্বভৌমত্ব পেয়েছি।’ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জনের পেছনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের স্মরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের চেতনাকে ধারণ করে দেশের উন্নয়নে সবাইকে কাজ করতে হবে।
সভায় শেরপুরের পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জেলার গারো পাহাড় এলাকায় পর্যটন কর্পোরেশনের উদ্যোগে পর্যটন স্পট এবং হোটেল-মোটেল নির্মাণের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সরকারদলীয় শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুনুর রশিদ পলাশ, সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহীন, বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, র্যাব, বিজিবি, আনসার ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী শেরপুরে পৌঁছালে সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মতামত দেন। পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন ও পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।