ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৭:০৭ পিএম

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে যেভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, একইভাবে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজিও দমন করা হবে।


রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণসংক্রান্ত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে সভায় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।


আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি দমনের পথে বিএনপির কোনো নেতা বাধা হয়ে দাঁড়ালেও তা বিবেচনায় নেওয়া হবে না। রাজনৈতিক পরিচয় কোনো অপরাধীর ছাড় পাওয়ার কারণ হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, একটি ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছিলেন। বিষয়টি জানার পর প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনের পদক্ষেপে ওই নেতার এক বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে সরকার প্রশ্রয় দিতে চায় না।


বাক্‌স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, মানুষের মতপ্রকাশ, কথা বলা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। তবে হলুদ সাংবাদিকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের চরিত্রহনণের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের দাবিও বিভিন্ন মহল থেকে আসছে।


সাইবার আইন ২০২৬ সংশোধনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ-সংক্রান্ত একটি সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছিল। মানুষের বাক্‌স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবটি আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সাবকমিটিতে পাঠান।


আইনমন্ত্রী জানান, পরে সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে জনপরামর্শের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের কাছ থেকেও সংশোধনী নিয়ে পরামর্শ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিশেষ করে ঢাকায় সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়ন নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কথা তিনি শুনেছেন। এ কারণে প্রথমবারের মতো ঢাকা শহরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


বিচার বিভাগের সংস্কার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক ও শহীদ মাহমুদ হোসেনসহ কয়েকজন বিচারকের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বর্তমানে সরকার বিচারব্যবস্থা মেরামতের কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কাজে সময় লাগবে। এজন্য সবার সহযোগিতা ও আস্থা প্রয়োজন।


আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার প্রতিশোধের রাজনীতির পথে না গিয়ে জনগণের সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সরকারি দলের নেতা-কর্মীদেরও একই নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।


এর আগে সকাল ৯টায় জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলা ও দায়রা জজ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জেলা পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। এ সময় তিনি বিচার বিভাগের স্থানীয় বিভিন্ন সংকটের কথা শোনেন এবং সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।


দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ ভাগে বিকেল ৩টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন আইনমন্ত্রী।


এ সম্পর্কিত আরো খবর