পাবনা প্রতিনিধি
পাবনায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলামের অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে স্পষ্ট ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে এক বিশাল মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাবনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শহরের প্রধান প্রাণকেন্দ্র আব্দুল হামিদ সড়কের সামনে এ বিক্ষোভ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সাড়ে এক ঘণ্টার এই মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ পাবনার জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবর তাদের বিভিন্ন দাবি সম্বলিত বিস্তারিত স্মারকলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
ঐতিহ্যবাহী পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামকে জড়িয়ে একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, কুৎসা রটনা ও নজিরবিহীন ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আয়োজিত এই মানববন্ধনে পাবনা প্রেসক্লাবের সদস্যসহ জেলায় সর্বস্তরে কর্মরত মূলধারার শতাধিক পেশাদার সাংবাদিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। প্রতিবাদী মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা সাংবাদিক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানান এবং ঘটনায় বিতর্কিত ভূমিকা পালন করা ডিবির ওসির দ্রুত অপসারণ দাবি করেন।
পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতারের শুভ সভাপতিত্বে এবং সংস্কৃতি সম্পাদক ইয়াদ আলী মৃধা পাভেলের চমৎকার সঞ্চালনায় এই বিশেষ প্রতিবাদী মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, সাবেক সম্পাদক আব্দুল মতিন খান, সাবেক সম্পাদক উৎপল মির্জা, সিনিয়র সহ-সভাপতি সিফাত রহমান সনম, সাংবাদিক রাজিউর রহমান রুমি, প্রবীণ সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মান্নান মাস্টার, পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহবুব মোর্শেদ বাবলা, সাংবাদিক আব্দুল হামিদ খান, সরোয়ার উল্লাস, রিজভী জয়, ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন পাবনার সভাপতি জিয়াউল হক রিপন এবং বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা সমিতি পাবনা জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মজিদসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদানকালে সাংবাদিক বক্তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাবনা প্রেসক্লাবের সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামকে নিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিডিও তৈরি করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী পাবনা প্রেসক্লাব এবং জেলায় সততার সাথে কাজ করা মূলধারার সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ভাবমূর্তি গভীরভাবে ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। বক্তারা এ ঘটনায় অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে নেপথ্যে থাকা কুচক্রী মহলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে চরম ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্যকালে আরও উল্লেখ করেন, ডিবি কার্যালয়ের মতো একটি চরম দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল প্রশাসনিক দপ্তরে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার অভিযোগ ওঠায় তা অত্যন্ত গুরুতর ও আশঙ্কাজনক। তারা চরম হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত সম্পাদন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আগামীতে সাংবাদিক সমাজকে সাথে নিয়ে সমগ্র পাবনা জেলা জুড়ে আরও কঠিন ও তীব্র আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এর আগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার মূল অভিযোগকারী তরুণী নাফিসা খাতুন সরাসরি দাবি করেন, তাকে জিম্মি করে সাংবাদিক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বানোয়াট বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে সেই বক্তব্য জোরপূর্বক ভিডিওতে ধারণ করা হয় বলেও তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন। একই সঙ্গে থানায় পূর্ব প্রদান করা তার লিখিত অভিযোগটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের কথাও প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন নাফিসা খাতুন।
তবে পাবনা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, চরম আতঙ্কিত একটি পরিবার প্রশাসনিক সহায়তা চাইলে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছিল। সেখানে পরস্পরের কথাবার্তার একপর্যায়ে উপস্থিত অন্য কেউ হয়তো গোপনে ওই ভিডিওটি ধারণ করেছে।
অন্যদিকে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশরাফ জানান, পাবনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রকৃত সত্যতা উদ্ঘাটনে খুব শীঘ্রই একটি নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
আকাশজমিন / আরআর