ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১:৫১ পিএম

স্টাফ রিপোর্টার

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরাসরি প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকারপর্ব শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য বিস্তারিত জানান।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এই বিষয়ে বিষয়টির সঠিক আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের প্রচলিত স্থানীয় সরকারের যে পাঁচটি আইন রয়েছে, সেই পাঁচটি আইনের কোনোটিতেই নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা বা ন্যূনতম শর্ত রাখা হয়নি। ফলে আগামী দিনে যারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের কোনো গুজবে কান দিয়ে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আমি আবারো বলছি, কোনো পদের জন্যই শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

 

শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করে মীর শাহে আলম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ প্রয়োজন হয় না। একইভাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দাঁড়ানোর জন্যও কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা বা নিয়ম নেই। অনুরূপভাবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান বা মেয়র, ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরসহ স্থানীয় সরকার কাঠামোর সমস্ত পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয় বা প্রয়োজন নেই।

 

এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে আপনাদের অনেকের মধ্যে একটি প্রশ্ন রয়েছে। আমাদের প্রচলিত স্থানীয় সরকার আইনে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি প্রজাতন্ত্রের কাজে কিংবা পরিষদে অথবা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো লাভজনক সার্বজনীন পদে বহাল থাকেন, তবে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিষয়টিকে স্পষ্ট করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের প্রণীত ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫’-এর বিধি ১১-এর পয়েন্ট ১৭(খ)-তে বিষয়টিকে আরও বিস্তৃতভাবে স্পষ্ট করেছে। নীতিমালার ১১.১৭(খ) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী একই সময়ে একাধিক কোনো পদ, চাকরি কিংবা কোনো প্রকার আর্থিক লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। এই নীতিমালার আলোকেই ‘আর্থিক লাভজনক পদ’ বলতে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত যেকোনো ধরনের বেতন, ভাতা, সম্মানিসিহ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোনো সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা আইন পেশার মাধ্যমে প্রাপ্ত যেকোনো বিনিময়সূচক বেতন, ভাতা ও সম্মানিকে বোঝাবে।

 

এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আইনি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে মীর শাহে আলম বলেন, মূলত নির্বাচনের বিধিমালা প্রণয়ন এবং প্রার্থীর যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন। এখন নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের এমপিও নীতিমালার আইনি ব্যাখ্যাকে এক জায়গায় এনে এটি ঠিক করবে যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না। তিনি আরও যোগ করেন, এরপরও যদি এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত কোনো আইনগত মতামতের প্রয়োজন দেখা দেয়, অথবা বিষয়টিকে আরও বিস্তারিতভাবে জানার প্রয়োজন হয় কিংবা কোনো বিশেষ ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে তারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠালে আমরা আবার অবিলম্বে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ ও কথা বলে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে দেব।

 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যোগ্যতার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বলেন, জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সংসদ সদস্য (এমপি) হওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আমি এমপি হয়েছি, আমার তো প্রার্থীতার ফরমে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন হয়নি। কারণ দেশের আইনেও এটি নেই এবং সংবিধানেও কোনো শর্ত নেই। যেহেতু সংসদ সদস্যদের যোগ্যতার প্রশ্নে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি, সেহেতু স্থানীয় সরকারের যে পাঁচটি আইন আমরা করেছি, সেখানেও আমরা এটি রাখিনি।

 

প্রতিমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের পেছনের মূল কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হলে এটি একধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় হয়ে যেতে পারে। কারণ দেশের একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক হয়তো প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা করার সুযোগ পাননি। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, অর্থাৎ ফরমালি পড়ালেখা না থাকলেও একজন মানুষ নিজস্ব বিচারে শিক্ষিত বা স্বশিক্ষিত হতে পারেন। অথবা কোনো দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না গিয়েও তার মধ্যে পরম আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ জ্ঞান থাকতে পারে। যদি একজন মানুষের মধ্যে প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা ও ক্ষমতা থাকে, তাহলে রাজনীতিতে সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই কারণেই সাংবিধানিকভাবে এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই আমরা স্থানীয় সরকারের এই পাঁচটি আইনেও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণভাবে তুলে দিয়েছি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর