ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

আদানির গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল

দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১:৪০ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া দ্বিতীয় ইউনিটটি সফলভাবে পুনরায় চালু করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটটি দ্রুত সারিয়ে তোলার ফলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার জোর আশা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছু আগেই বাংলাদেশ সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে ইউনিটটি সফলভাবে সচল করা হয়। রোববার সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে ইউনিটটির প্রয়োজনীয় সমন্বয় বা সিঙ্ক্রোনাইজেশন সম্পন্ন করার কথা জানানো হয়, যার ফলে দুপুরের মধ্যেই ভারত থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা গভীর আশা প্রকাশ করেছেন।

 

রোববার সকালে এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় আদানি পাওয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের গোড্ডা কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে পুনরায় চালু করতে তারা সক্ষম হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার আগেই সম্পূর্ণ ইউনিটটি প্রস্তুত করা গেছে বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে দুপুরের আগেই সরবরাহ পুনরুদ্ধার হবে। এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট দুটি ইউনিটের মধ্যে একটি ইউনিট হঠাৎ মারাত্মক কারিগরি ত্রুটির মুখে বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় কেন্দ্রটির ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটটির বয়লারে ভয়াবহ ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে এর উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়েছিল।

 

একটি প্রধান ইউনিট বিকল হওয়ার কারণে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যায় এবং স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পায়। বিদ্যুৎ খাতের সরকারি সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, আকস্মিক বয়লার ত্রুটিতে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঠিক আগে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে মোট বিদ্যুৎ সরবরাহ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল। তবে একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ অর্ধেকেরও বেশি কমে গিয়ে মাত্র ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। ফলে দেশে পূর্বে বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের কারণে তৈরি হওয়া অস্থিরতা আরও বাড়তি চাপের মুখে পড়ে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট লোডশেডিং ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।

 

এদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বয়লারে তৈরি হওয়া মূল ত্রুটি শনাক্ত করার পরপরই দ্রুত মেরামতের কাজ জোরদার করা হয়। প্রথমদিকে প্রকৌশলীদের প্রাথমিক ধারণা ছিল বিকল হয়ে যাওয়া ইউনিটটি সম্পূর্ণ সারিয়ে আবার উৎপাদনে ফেরাতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তবে কারিগরি দলের বিশেষ প্রচেষ্টায় নির্ধারিত সময়ের আগেই সব ধরনের মেরামত কাজ শেষ হওয়ায় দ্রুততম সময়ে পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফেরা সম্ভব হয়েছে।

 

এর আগে কয়লা পরিবহনে বিভিন্ন ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রাকৃতিক বিঘ্ন ঘটার কারণে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তার মোট সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল। আদানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারতে ট্রেন চলাচলে মারাত্মক যানজট, কয়লা পরিবহনে বিভিন্ন প্রশাসনিক বিধিনিষেধ এবং ভারী বর্ষণের কারণে কয়লা সরবরাহ প্রক্রিয়া চরমভাবে ব্যাহত হয়েছিল। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ কয়লা মজুত রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল।

 

তবে গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে পরিবহন ভৌগোলিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটলে কেন্দ্রটির উৎপাদন আবারও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। ওই সময় দিনের বেলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াটে পৌঁছায় এবং সন্ধ্যাকালীন পিক আওয়ারে তা এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত উন্নীত হয়। পরবর্তীতে সার্বিক উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের ওপরে নেওয়া সম্ভব হলেও ঠিক সেই মুহূর্তে বয়লারের আকস্মিক কারিগরি ত্রুটি বা বিপত্তিতে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি করে।

 

বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অন্যতম প্রধান আমদানিকৃত উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। ভারতীয় এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি পৃথক ইউনিট থেকে মোট হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন যে, বিকল হওয়া ইউনিটটি পুনরায় পুরোদমে সচল হওয়ায় বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের চলমান লোডশেডিং অনেকাংশেই কমে আসবে।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর