জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আসন্ন এই সফরকালে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন রূপরেখা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কূটনৈতিক অঙ্গনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউইয়র্ক সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সার্বিক পরিস্থিতি পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সেখানে যাওয়ার প্রাথমিক ও প্রধান উদ্দেশ্য হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ আলোচনায় বক্তব্য রাখা এবং বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করা। তবে বিশ্ব নেতৃত্বের এই সম্মেলনে সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার দীর্ঘদিনের রীতি রয়েছে।
সফরের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি এবং সৌজন্য সাক্ষাৎ সংক্রান্ত তথ্যাদি সম্পর্কে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী কখন রওনা হবেন এবং সফরকালে সাইডলাইনে ঠিক কাদের সঙ্গে বৈঠক বা আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে, তার বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো তথ্যই গোপন রাখা হবে না বলে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।
একই অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকা এখন একটি নতুন এবং আরও কার্যকর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে ইচ্ছুক।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অপ্রীতিকর ঘটনা ও সীমান্ত হত্যা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে বেসামরিক বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা বন্ধ করা এবং তাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ তার স্পষ্ট অবস্থান ধরে রেখেছে।
ব্রিফিংয়ের শেষভাগে বিদেশে পাচার হওয়া রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি উল্লেখ করেন, দেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার করে জাতীয় অর্থনীতিতে ফেরত আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য (ব্রিটেন)-সহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি বন্ধুপ্রতীম দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ বর্তমানে যৌথভাবে নিবিড় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।