ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

ফুলজোড় নদীতে খাঁচায় তেলাপিয়া চাষে স্বাবলম্বী চাষি


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৩:৪৫ পিএম

সিরাজগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধি

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ফুলজোড় নদীতে খাঁচায় তেলাপিয়া মাছ চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নদীর পানিকে কাজে লাগিয়ে ভাসমান খাঁচায় বাণিজ্যিকভাবে মাছ উৎপাদন করে স্থানীয় অনেক চাষি স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। বাজারে মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছের চাহিদা বেশি থাকায় চাষিদের এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

ফুলজোড় নদীর বিভিন্ন এলাকায় নদীর ওপর স্থাপন করা হয়েছে শত শত মাছের খাঁচা। এসব খাঁচায় মূলত মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষ করা হচ্ছে। অপেক্ষাকৃত কম জায়গায় এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মাছ উৎপাদনের সুযোগ থাকায় প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি খাঁচায় মাছ চাষও চাষিদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় মাছচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাঁচায় মাছ চাষে নিয়মিত খাবার, পরিচর্যা ও পানির গুণগত মানের দিকে নজর দিতে হয়। এসব খাতে ব্যয় থাকলেও বাজারে তেলাপিয়ার ভালো চাহিদা থাকায় সঠিকভাবে চাষ করতে পারলে লাভের সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে দিন দিন নতুন নতুন চাষি এ পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।

ফুলজোড় নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ করা চাষি লোকমান হোসেন বলেন, “শীতকাল তেলাপিয়া মাছ চাষের উপযুক্ত মৌসুম। আমি ফুলজোড় নদীতে ৬৫টি খাঁচায় মাছ চাষ করি। বাজারে তেলাপিয়ার চাহিদা ভালো থাকায় আমার ম‌তো অ‌নে‌কেই খাঁচায় মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”

ভূইয়াগাঁতী শ্মশানের পূর্ব পাশে ৪৫টি খাঁচায় তেলাপিয়া মাছ চাষ করছেন পুরস্কারপ্রাপ্ত চাষি আতাউর রহমান। তিনি জানান, বছরের নির্দিষ্ট সময়ে তেলাপিয়া চাষের জন্য পরিবেশ বেশি উপযোগী হয়ে ওঠে। তবে নদীর পানিদূষণ তাদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আতাউর রহমান বলেন, “চৈত্র থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত এ মাছ চাষের উপযুক্ত সময়। কিন্তু উজান থেকে নদীতে কেমিক্যাল জাতীয় পদার্থ ছেড়ে দেওয়ার কারণে অনেক সময় মাছ মারা যায়। এতে আমরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই।”

চাষিদের অভিযোগ, নদীর পানির গুণগত মান ঠিক রাখা না গেলে খাঁচায় মাছ চাষের সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে উজান থেকে দূষিত পানি বা রাসায়নিক পদার্থ নদীতে প্রবেশ করলে মাছের ওপর তার বিরূপ প্রভাব পড়ে। এতে একদিকে যেমন মাছ মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে চাষিদের বিনিয়োগও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

রায়গঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, ফুলজোড় নদীতে প্রায় ১ হাজার ২০০টি খাঁচায় তেলাপিয়া মাছ চাষ হচ্ছে। নদীকে কাজে লাগিয়ে মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে চাষিরা স্থানীয়ভাবে মাছের জোগান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে খাঁচায় মাছ চাষিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চাষিদের সরকারি প্রকল্পের আওতায় এনে সহযোগিতা করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ ঘোষ বলেন, খাঁচায় মাছ চাষকে উৎসাহিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাছ কোনো রোগে আক্রান্ত হলে কী ধরনের খাবার ও পরিচর্যা প্রয়োজন, কোথা থেকে মানসম্মত পোনা সংগ্রহ করা যাবে এবং পানির গুণগত মান কীভাবে পরীক্ষা করতে হবে এসব বিষয়ে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নদীর পানির গুণগত মান মাছ চাষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত পানির মান পরীক্ষা এবং মাছের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চাষিরা যদি সরকারি আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা পান, তাহলে আগামী দিনে ফুলজোড় নদীতে খাঁচায় মাছ চাষের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদী ও জলাশয়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে খাঁচায় মাছ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং চাষিদের আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনাকে টেকসই করতে নদীর পানিদূষণ রোধ, নিয়মিত পানির গুণগত মান পরীক্ষা, চাষিদের প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

ফুলজোড় নদীর বুকে সারি সারি ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ এখন রায়গঞ্জের অনেক মানুষের জীবিকার নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। যথাযথ সরকারি সহায়তা ও নদীর পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ শুধু চাষিদের স্বাবলম্বী করাই নয়, স্থানীয় মৎস্য উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর