ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র জমা

আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:২৫ এএম

অনলাইন রিপোর্টার

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পাদিত সব নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এসে পৌঁছেছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর নথিপত্র তলব করে চিঠির পর মন্ত্রণালয় থেকে এসব কাগজপত্র দুদকে পাঠানো হয়। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই কর্মকর্তা জানান, অনুসন্ধানের স্বার্থে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র তলব করা হয়েছিল। বেশিরভাগ নথি এসে পৌঁছেছে। এখন দুদক তা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করবে এবং কোনো ধরনের আইন ও বিধির ব্যত্যয় ঘটেছিল কি না তা খতিয়ে দেখবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও পরীক্ষা করা হবে।

 

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। অনুসন্ধানী কাজের অংশ হিসেবে পরের দিনই চার ধরনের নথি তলব করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় সংস্থাটি। চিঠিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আমলে সংঘটিত সব নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট স্মারকমূলে সম্পাদিত কাজের নথিপত্র চাওয়া হয়েছিল।

 

এদিকে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ঘুষ, নিয়োগ ও পদায়ন বাণিজ্য এবং বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারসহ নতুন একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ যুক্ত হয়েছে। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ জানান, নতুন প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তা আগের অনুসন্ধানের সঙ্গেই সংযুক্ত করা হয়েছে। নতুন অভিযোগে বিশ্বের ৫টি দেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে নিজ দুই বোন জামাই ও ভাগিনাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এর মধ্যে দুবাইতে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের পাশাপাশি পর্তুগালে জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে।

 

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেনের মারাত্মক অভিযোগ অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের ৩য় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এতে রয়েছে।

 

অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগে কোটি কোটি টাকার লেনদেন, ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা গ্রহণ, এলজিইডির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে পদায়ন। আরও অভিযোগ করা হয়, তার বাবা বিল্লাল হোসেন, এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ও পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়া ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

 

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে জানান, ১১ হাজার কোটি টাকার সংখ্যাটি কাল্পনিক এবং তার বিরুদ্ধে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তে অসঙ্গতি প্রকাশ পাচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দুদক ব্যবহৃত হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, পূর্বে যেভাবে দুদক ব্যবহৃত হয়েছিল, এখনও সেভাবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপ-সচিব মো. মাসুম আহমেদসহ একাধিক কর্মকর্তার নাম রয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর