ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

বরিস জনসনের ট্রেন পার হতেই রুশ হামলা

অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:২৩ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে পোল্যান্ড সীমান্তের একেবারে কাছে এক ভয়াবহ রুশ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে অল্পের জন্য এক বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ ইউরোপের একাধিক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তারা যে ট্রেনে অবস্থান করছিলেন, সেটি হামলার স্থান অতিক্রম করার কিছুক্ষণ পরেই ওই একই রেলপথ দিয়ে যাওয়া অন্য একটি ট্রেনে আঘাত হানে শক্তিশালী রুশ ড্রোন। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় হামলার আগেই সব যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। ফলে হামলায় মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে আক্রমণের শিকার যাত্রীবাহী ট্রেনটির বিশাল ইঞ্জিন পুরোপুরি বিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

ইউক্রেনীয় উদ্ধারকারী ও সীমান্ত কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের সীমান্ত ঘেঁষা অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইয়াহোদিন এলাকায় এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। এটি পোল্যান্ডের সীমান্ত থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক সীমানার এত কাছাকাছি স্থানে রুশ হামলার কারণে পুরো ইউরোপীয় নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

 

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ছাড়াও এই বিশেষ কূটনৈতিক সফরে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল। তাদের সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও ছিলেন। কিয়েভে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে সফলভাবে অংশগ্রহণ শেষে তারা একটি বিশেষ কূটনৈতিক ট্রেনে করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরছিলেন। তারা যে রেলপথটি ব্যবহার করেছিলেন, সেটিই পরবর্তীতে রুশ ড্রোনের আক্রমণের শিকার হয়। তবে সৌভাগ্যবশত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলকে বহনকারী ট্রেনটি হামলার আগেই এলাকাটি নিরাপদে পার হয়ে যায়।

 

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা ‘উক্রজালিজনিতসিয়া’ জানিয়েছে, রুশ হামলার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কার কারণে কূটনৈতিক ট্রেনের ভ্রমণ ও সময়সূচিতে জরুরি ভিত্তিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। বিশেষ নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী, সেই কূটনৈতিক ট্রেনটিকে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। আর হামলার শিকার হওয়া অপর ট্রেনটির কথা উল্লেখ করে সংস্থাটি জানায়, বিস্ফোরণ ঘটার মাত্র ১৫ মিনিট আগে সব যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য জরুরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে একটি ভয়াবহ মানবসৃষ্ট দুর্যোগ ও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

 

উক্রজালিজনিতসিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, সম্ভবত এই রুশ হামলার প্রকৃত ও মূল লক্ষ্য ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ ইউরোপীয় নেতাদের বহনকারী সেই কূটনৈতিক ট্রেনটিই। রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ও ড্রোন পরিচালনাকারীরা ভিআইপি ট্রেনটির গতিপথ ট্র্যাক করছিল বলে ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে।

 

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, ড্রোন হামলার ঠিক সেই মুহূর্তে ইয়াহোদিন স্টেশনে থাকা অন্য একটি ট্রেনে অবস্থান করছিলেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সাবেক প্রধান ডেভিড পেট্রাউস। তিনিও অক্ষত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে সক্ষম হন।

 

অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তারা পশ্চিম ইউক্রেনের সামরিক প্রয়োজনীয়তায় ব্যবহৃত ‘রেল অবকাঠামো’ উদ্দেশ্য করেই এই হামলা চালিয়েছে। কোনো কূটনৈতিক ট্রেন তাদের লক্ষ্য ছিল না বলে মস্কো পরোক্ষভাবে নির্দেশ করে। তবে ইউক্রেন ও পোল্যান্ড—দুই দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, রুশ ড্রোনটি পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে আঘাত হানে। আন্তর্জাতিক সীমানার এত কাছে এমন ভয়াবহ হামলা পোল্যান্ড ও ন্যাটোর সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট শঙ্কা তৈরি করেছে।

 

ঘটনার পর ইয়াহোদিন এবং আশপাশের রেল সংযোগে সাময়িক বিপর্যয় সৃষ্টি হলেও ইউক্রেনীয় প্রকৌশলীরা দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করেছেন। পশ্চিমাদের সঙ্গে ইউক্রেনের যোগাযোগের প্রধান এই মাধ্যমটিতে বারবার আক্রমণের মাধ্যমে রাশিয়া সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে বলে সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সার্বিকভাবে, কূটনৈতিক সতর্কবার্তা এবং দ্রুততম সময়ের সিদ্ধান্তের ফলেই বরিস জনসন এবং জোনাথন পাওয়েলের মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে বড় কোনো আন্তর্জাতিক বিপর্যয় ঘটেনি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর