ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:২৮ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধি:

ঋতু পরিক্রমায় বাংলা ষড়ঋতুর কাব্যিক রূপ নিয়ে এখন হাজির শরৎকাল। দিগন্তজোড়া নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর স্নিগ্ধ বাতাসের দোলায় প্রকৃতি জানান দিচ্ছে তার অপরূপ রূপের উপস্থিতি। দূর-দূরান্তের মানুষকে প্রকৃতির এই নিজস্ব আয়োজনে মুগ্ধ করছে চারপাশের শুভ্র কাশফুল। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন মাটির বুকে নামানো শুভ্র মেঘের চাদর। এই চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই কাশবনে প্রকৃতির রূপপিপাসু শত শত দর্শনার্থী ভিড় জমাচ্ছেন। তবে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ অঞ্চলে শরতের এই শুভ্র কাশফুল কেবল সৌন্দর্যের দ্যুতি ছড়িয়েই ক্ষান্ত হয় না, এটি একইসঙ্গে অনেক নিম্নআয়ের মেহনতি মানুষের জীবিকার প্রধান খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাশবনের খড়, ছন আর ঝাটি বিক্রি করে এই এলাকার বহু পরিবার এখন আর্থিকভাবে সচ্ছলতা ও স্বাবলম্বী হওয়ার মুখ দেখছে।


সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আবহাওয়া অফিসের ভেতরের উন্মুক্ত এলাকা, ঘরগ্রাম, মাগুড়া বিনোদ, দিঘী সগুনা, কুন্দইল, বারুহাঁস সড়ক এবং মাধাইনগর রাস্তা সংলগ্ন বেশ কিছু স্থানে প্রাকৃতিকভাবেই প্রতি বছর জন্ম নেয় বিপুল কাশবন। কোনোরকম যত্ন ও পরিচর্যা ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেড়ে ওঠা এই বিশাল কাশবনে এখন নিজেদের জীবন ও জীবিকার সন্ধান করছেন প্রায় দুই শতাধিক হতদরিদ্র পরিবার। কাশবন থেকে সংগৃহীত খড়, ছন ও ঝাটি এই অঞ্চলের পানের বরজগুলোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি কাঁচামাল। পানের বরজের চাল ছাওয়া এবং পান গাছ বেঁধে রাখার কাজে এর বিকল্প নেই। পাশাপাশি পানের বরজের কাজে ব্যবহারের পর অবশিষ্ট শুকনা অংশগুলো গ্রামীণ পরিবারের গৃহস্থালি রান্নাবান্নার জ্বালানি হিসেবেও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ব্যবহার করা যায়। ফলে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষগুলো ছুটে আসেন এই কাশবনে ছন, খড় ও ঝাটি সংগ্রহ করতে।


কাশফুলের চোখ জুড়ানো রূপের মৌসুম একসময় শেষ হয়ে গেলেও এর ছন ও খড়ের সার্বিক চাহিদা বজায় থাকে সারাবছরই। কাশবন থেকে খড় ও ঝাটি কাটতে আসা স্থানীয় শ্রমিক দিপা রানী বলেন, কাশবনের এই শক্ত ও টেকসই ছন দিয়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পানের বরজে ছাউনি দেওয়া হয়। এছাড়া পানের লতা বা গাছগুলো যাতে সোজা হয়ে বেড়ে উঠতে পারে, সেজন্য বরজের বাঁশের শলার সঙ্গে ছন দিয়ে পান গাছ শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়। সাধারণ সুতা বা দড়ি দিয়ে বাঁধলে সেগুলো বৃষ্টি বা রোদে খুব দ্রুত পচে ছিঁড়ে যায় এবং স্থায়িত্ব অনেক কম হয়। কিন্তু কাশবনের শক্ত ছন দিয়ে বাঁধলে তা দীর্ঘদিন অক্ষত ও টেকসই থাকে। ঠিক এই কারণেই পানের বরজ মালিকদের কাছে কাশবনের খড় বা ছনের চাহিদা সবসময়ই তুঙ্গে থাকে।


অনেকেই আবার বেশি পরিমাণে কাশবন কেটে প্রক্রিয়াজাত করে পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে খড়, ছন ও ঝাটি বিক্রি করে বাড়তি অর্থ উপার্জন করছেন। বর্তমানে বাজার দর অনুযায়ী এক আঁটি ছন বা ঝাটি পাঁচ টাকা থেকে শুরু করে ১০ টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি হয়। আর ভ্যান ভর্তি করে এক গাড়ি শুকনো ছন বিক্রি করলে সহজে পাওয়া যায় ৩ শত থেকে ৪ শত টাকা পর্যন্ত। শরৎকালের আবেশ শেষ হওয়ার সাথে সাথে কাশবনের সাদা ফুলগুলো একসময় বাতাসে ঝড়ে পড়ে।


ঠিক তখনই শুরু হয় এই বিকল্প মৌসুমী কাজের তোড়জোড়। এক দিকে যেমন কোনো ধরনের উৎপাদন বা রোপণ খরচ নেই, অন্যদিকে কাজটিতে জটিল ঝামেলাও অনেক কম। তাই স্থানীয় অসচ্ছল মানুষদের কাছে এটি অত্যন্ত লাভজনক ও জনপ্রিয় একটি পেশা হিসেবে গড়ে উঠেছে। এছাড়া এই কাশবন এবং আশপাশের এলাকা থেকে সংগৃহীত ছন ও ঝাটি ব্যবহার করে আকর্ষণীয় শো-পিস, পরিবেশবান্ধব গৃহস্থালি সামগ্রী এবং নান্দনিক দৃষ্টিনন্দন নানা ধরনের হস্তশিল্প প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর