ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হকের (৩৮) মরদেহ ৩৬ ঘণ্টা পর ফেরত দিয়েছে বিএসএফ। রোববার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার জিনাজপুর সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। নিহত আসাদুল হক পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে বিজিবি আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে।
এর আগে শনিবার ভোররাতে পীরগঞ্জের চান্দেরহাট দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের ৩ ৩৩ নম্বর পিলারের কাছে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টার সময় বিএসএফের টহলদল বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। বিএসএফের উত্তর দিনাজপুরের ৬৩ নম্বর চকশিবানন্দ ক্যাম্পের টহলদলের গুলিতে আসাদুলসহ তিন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ভারতের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল হকের মৃত্যু হয়।
হামলায় গুলিবিদ্ধ ও আহত অন্য দুজন হলেন পীরগঞ্জ উপজেলার উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম এবং একই গ্রামের নারায়ণের ছেলে শ্রী উদা। তাদের দুজনকেও কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ভারতের অণুপ্রবেশবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের ১৪ দিনের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সীমান্তের ভারতীয় স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক ও কালিয়াগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোররাতে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ মহকুমা এলাকায় কয়েকজন বাংলাদেশি মই দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন বলে দাবি করে বিএসএফ। এ সময় বিএসএফ সদস্যদের গুলিতে তারা হতাহত হন। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর আইনি বাধ্যবাধকতা শেষে আসাদুলের মরদেহ বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আসাদুল হকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হলে রোববার দুপুরে চান্দেরহাট সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে এক জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক হতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে বিএসএফের কাছে নিহতের মরদেহ দ্রুত ফেরত দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।
৪২ বিজিবির অধিনায়ক জানান, বিএসএফের সাথে সার্বিক যোগাযোগ ও আলোচনার পর সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে রাত ১০টার দিকে বিএসএফ নিহতের মরদেহ ফেরত প্রদান করে।