নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় উপস্থিতি, ত্যাগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে এসেছে বোরহান উদ্দিন ইশরাকের নাম। রাজপথের নানা কর্মসূচিতে কর্মীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা এবং একের পর এক প্রতিকূলতার অভিজ্ঞতার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন সাধারণ কর্মী ও সমর্থকেরা।
২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির পর সক্রিয়ভাবে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন ইশরাক। শুরু থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন আন্দোলন ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতে শুরু করেন তিনি। রাজপথের কর্মসূচি সফল করতে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় শুরু থেকেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের বিভিন্ন পদে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন সময়ে যুগ্ম আহ্বায়ক, প্রচার সম্পাদক এবং সর্বশেষ সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
রাজনীতি করতে গিয়ে একাধিকবার হামলা, গুলি এবং কারানির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন এই ছাত্রনেতা। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে তিনি চারবার মারাত্মকভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন—২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সালের ২৯ জুলাই ও ২৮ অক্টোবর এবং ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই। এছাড়া রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়ে ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০২১ সালে তিন দফায় গ্রেপ্তার হন এবং মোট প্রায় নয় মাস কারাগারে বন্দি জীবন অতিবাহিত করেন।
রাজনৈতিক প্রতিকূলতার পাশাপাশি ছাত্র-জনতার প্রতিটি আন্দোলনেও তিনি সম্মুখসারিতে ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনেও সহযোদ্ধাদের সঙ্গে রাজপথে সক্রিয় থেকে ভূমিকা পালন করেন ইশরাক। আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালেও তাঁর সেই রাজনৈতিক সক্রিয়তা বজায় রয়েছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তা জোরদার করা, সহনশীল ও গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির পরিবেশ বজায় রাখা এবং বিভিন্ন জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে অনুষ্ঠিত সামাজিক-রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁকে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দেখা গেছে।
রাজনীতি ও সাংগঠনিক ব্যস্ততার পাশাপাশি নিয়মিত সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন এই ছাত্রনেতা। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান, এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণ এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ শিক্ষার্থীদের পোশাক ও খাবার দেওয়ার মতো প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণ ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন তিনি। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বর মাসে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে পোশাক বিতরণ এবং মধ্যাহ্নভোজের আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে একাধিকবার জীবন বাজি রাখা, বিভিন্ন মেয়াদে কারাবরণ, কর্মীদের সঙ্গে গভীর মেলবন্ধন এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বোরহান উদ্দিন ইশরাকের নাম জোরেশোরে আলোচনায় আসছে। কর্মীবান্ধব এই নেতার সার্বিক রাজনৈতিক ত্যাগ ও অবদান কেন্দ্রীয় পদ মূল্যায়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে চূড়ান্তভাবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব কাদের কাঁধে উঠবে, তা নির্ধারণ করবে দলীয় সাংগঠনিক মূল্যায়ন ও শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
আকাশজমিন / আরজে