ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:২৫ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের জমকালো নৈশভোজের মেনু নিয়ে ভারতে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক। সম্মেলনে যোগ দিতে আসা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের জন্য আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজে কোনো মাছ বা মাংসের পদ না রেখে সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।

 

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। বিরোধীদের মূল অভিযোগ, বিজেপি সরকার নিজেদের দলের পছন্দ ও নিরামিষ সংস্কৃতিকে জোরপূর্বক বৈশ্বিক নেতাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে এবং ভারতের ঐতিহ্যবাহী সমৃদ্ধ খাদ্য বৈচিত্র্যকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আড়াল করেছে।

 

ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের জন্য দশটিরও বেশি বিশেষ নিরামিষ পদের সুস্বাদু ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সান্ধ্যকালীন এই আয়োজনের শুরুতে অতিথিদের পরিবেশন করা হয় বেসন দিয়ে তৈরি ভাপে সেদ্ধ রোল 'খান্ডভি মিলেট' এবং প্যানে গ্রিল করা মাশরুমের বিশেষ কাবাব 'খুম্ব গালাউটি'।

 

মূল খাবারের তালিকায় ছিল পনির লাবাবদার, হিমালয়ের বিরল মোরেল মাশরুম ও কচি অ্যাসপারাগাস দিয়ে প্রস্তুতকৃত 'গুচ্ছি মারমিক', ক্যারেট বিন পোরিয়াল, ডালের হালকা ঝোল 'থাক্কালি বেলে সারু', সুগন্ধি মিলেট পোলাও, বিটরুট রায়তা এবং বিভিন্ন ধরণের ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় রুটি। নৈশভোজের মিষ্টির তালিকায় শেষ আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছিল পুরান ঢাকার স্বাদের 'ওল্ড দিল্লি ফ্রুট ক্রিম উইথ জিলাপি' এবং 'শাহদূত ফিরনি'। এসব খাবারের সব পদেই ব্যবহৃত হয়েছিল নানারকম নতুন ও বৈচিত্র্যময় নিরামিষ উপকরণ।

 

তবে বিশ্বনেতাদের সামনে কেবল নিরামিষ পদ পরিবেশন করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিরোধী শিবির। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী উল্লেখ করেন যে, রেকর্ডের জন্য জানানো ভালো, ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী এবং ভারতীয় আমিষ খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু।

 

কংগ্রেসের আরেক শীর্ষ নেতা পবন খেরা অভিযোগ তুলে বলেন, নিজেদের পছন্দের খাবার দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অভ্যাস বিজেপির আগে থেকেই ছিল, তবে এবার তারা এক ধাপ এগিয়ে আন্তর্জাতিক অতিথিদের ওপরও নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক নেতা ওয়ারিস পাঠান প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, বিশ্বনেতাদের সামনে ভারতের খাদ্য সংস্কৃতির পূর্ণ রূপ তুলে ধরা উচিত ছিল। মাটন মাসালা ফ্রাই, হায়দরাবাদি বিরিয়ানি, তন্দুরি চিকেন, বাটার চিকেন ও গোয়ান ফিশ কারির মতো বিখ্যাত পদগুলো বাদ দিয়ে ভারতের খাদ্য বৈচিত্র্যকে সংকুচিত করা হয়েছে। এমনকি দুর্গাপূজার মৌসুমে আমিষ খাবার খাওয়া নিয়ে বিতর্কের আবহেই এই নতুন আন্তর্জাতিক বিতর্ক যুক্ত হলো।

 

বিরোধীদের এই সমালোচনার কঠোর জবাব দিয়েছে বিজেপি। শাসক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্রিকস সম্মেলনের মতো একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য ও বৈশ্বিক ঐকমত্য নিয়ে আলোচনা না করে বিরোধীরা নৈশভোজের মেনু নিয়ে কথা বলে দেশের আন্তর্জাতিক অর্জনকে খাটো করার অপচেষ্টা করছে। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের সাফল্য নিয়ে বিরোধীরা কোনো প্রশ্ন তুলতে না পেরে কেবল খাবারের পদ নিয়ে কথা বলছে। এতেই স্পষ্ট যে ব্রিকস সম্মেলন কতটা সফল হয়েছে।

 

বিজেপির আরেক জাতীয় মুখপাত্র তুহিন সিনহা সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানান, বিরোধী নেতাদের এমন মন্তব্য অত্যন্ত হাস্যকর ও অবান্তর, যা তাদের মানসিকতার দৈন্য প্রকাশ করে। তিনি যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নয়াদিল্লি ঘোষণার মাধ্যমে সব ব্রিকস দেশকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এক ছাতার নিচে এনে ভারত যে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে, একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দলের উচিত ছিল সেটিকে অভিনন্দন জানানো। তবে কূটনৈতিক অর্জনের চেয়ে খাবারের মেনুকে ঘিরেই এখন ভারতে রাজনৈতিক চড়াপাড়ান বজায় রয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর