ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

স্পেশাল পিপি আজিজুর রহমান দুলু

রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি বিচার বিভাগের জন্য একটি ‘মাইলফলক’


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৭ জুন, ২০২৬ সময় : ১:৩১ পিএম

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের মোটা অঙ্কের অর্থদণ্ড এবং ক্ষতিপূরণ পরিশোধের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই মেগা মামলাটির নজিরবিহীন দ্রুত নিষ্পত্তিকে দেশের সামগ্রিক বিচার বিভাগের জন্য একটি ঐতিহাসিক ‘মাইলফলক’ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের বিজ্ঞ স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু। আজ রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় স্পেশাল পিপি আজিজুর রহমান দুলু বলেন, এই স্পর্শকাতর মামলার রায় মূলত চার কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণভাবে কেউ যদি পাঁচ কার্যদিবসও বলেন, তবে তাও খুব একটা ভুল হবে না। তবে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে এটা দেশের ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, এই রায় ঘোষণার শুরুতেই বিজ্ঞ আদালত সুনির্দিষ্টভাবে বলেছেন যে, শিশুদের মৌলিক অধিকার বা তাদের সামগ্রিক সুরক্ষা রক্ষা করা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান মৌলিক উদ্দেশ্যগুলোর একটি। আমাদের এই রাষ্ট্রেরও অন্যতম প্রধান মৌলিক উদ্দেশ্য হলো আমাদের যে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, অর্থাৎ শিশুদের শতভাগ রক্ষা করা। কোনো শিশুর সঙ্গে যদি সমাজে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ও পাশবিক অপরাধ সংগঠিত হয়, সে ক্ষেত্রে আসামিদের প্রতি কোনো ধরনের দয়া-দাক্ষিণ্য না দেখিয়ে কঠোরতম সাজা নিশ্চিত করতে হবে। এরই নিরিখে উভয় আসামিকে এই সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন বিজ্ঞ আদালত।

আইনজীবী দুলু মামলার পরবর্তী ধাপের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আরও বলেন, এ মামলার পরবর্তী যাবতীয় আইনগত কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী উচ্চ আদালত অর্থাৎ হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে যাবে। এটা হলো সম্পূর্ণ ‘আইন অনুযায়ী’ বা আইনের নিজস্ব গতি। এই ‘আইন অনুযায়ী’ প্রক্রিয়ার যে ‘আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া’, এটাকে আমরা রাষ্ট্র হিসেবে কখনোই বাইপাস বা এড়িয়ে যেতে পারব না। রাষ্ট্র হিসেবে সভ্যতার নিরিখে আমরা যে সুনির্দিষ্ট আইনগত রাষ্ট্রে বসবাস করছি, সে রাষ্ট্রের একটি স্থায়ী আইনি কাঠামো আছে এবং সেই কাঠামোকে আমরা কোনোভাবেই বাইপাস করতে পারব না। সুতরাং ভবিষ্যতে এটা দেখা যাবে, সরকার এবং বিচার বিভাগের যিনি মূল অভিভাবক তথা মাননীয় প্রধান বিচারপতি এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যাপারে পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নেন।

জানা গেছে, আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় দুই আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এই অর্থদণ্ডের সম্পূর্ণ অর্থ ভুক্তভোগী রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন। রায়ে পরিষ্কার বলা হয়েছে, নির্ধারিত এই ক্ষতিপূরণ পরিশোধ না করলে আসামিদের সব স্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দিতে হবে। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা যায়। এর আগে সকাল সাড়ে আটটার দিকে আসামি স্বপ্না খাতুনকে এবং ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ১১টার পর বিচারক রায় পড়া শুরু করেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর