ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কেন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে? যুদ্ধ শেষে ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ৫০ পেরিয়ে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ গ্রিসে নৌকা ডুবে ১ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, নিখোঁজ ২৫ আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ সৌদির তায়েফসহ ৩ শহরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, আহত ১৩ আট বিভাগেই বৃষ্টির শঙ্কা, অপরিবর্তিত থাকবে দিন-রাতের তাপমাত্রা ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে সিঁড়িতে হুড়োহুড়িতে ঝরল ৬ প্রাণ উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল করলে পরীক্ষকের ২ বছরের জেল সক্ষমতার অর্ধেক উৎপাদনে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাড়ছে লোডশেডিং

সংসদে তদন্ত চাইলেন জয়নুল আবদিন ফারুক

‘মেট্রিক পাসও না, তবু সাংবাদিক; ইউনিয়ন পর্যায়েও মিলছে কার্ড’


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৭ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:৫৬ পিএম

বর্তমানে দেশের প্রায় সব উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও দেদারসে সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র বা কার্ড পাওয়া যাচ্ছে। অথচ এই কার্ডধারীদের অনেকেরই সাংবাদিকতা বিষয়ে কোনো ধরনের ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান নেই; তারা কেউ প্রকৃত রিপোর্টারও নন, এমনকি শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে মেট্রিক পাসও নন। দেশের বিভিন্ন জনপ্রিয় মাধ্যম বিশেষ করে ইউটিউবসহ নানা অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যার যা খুশি তাই মনগড়াভাবে প্রচার করা হচ্ছে। গ্রামীণ ও তৃণমূল পর্যায়ে কারা এসব সাংবাদিকতার কার্ড অবাধে বিতরণ করছে, এদের প্রকৃত লেখাপড়া কতটুকু এবং কারা সেই পরিচয় অবৈধভাবে ব্যবহার করছে— এ সব বিষয় গভীরভাবে তদন্ত করা দরকার বলে জোরালো দাবি জানিয়েছেন নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।

আজ রবিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক স্পিকারের মাধ্যমে বলেন, ‘এই স্পর্শকাতর বিষয়গুলো দ্রুত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কঠোর আওতায় এনে কার্যকর কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তৃণমূলের এসব অনিয়ন্ত্রিত ও অপসাংবাদিকতার কর্মকাণ্ড এখনই বন্ধ করা না হলে মূলধারার গণমাধ্যমের চিরন্তন বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে দেশের চলমান সামগ্রিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশও নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার চরম আশঙ্কা রয়েছে।’

তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ভুল তথ্য এবং অপতথ্য নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করছি। মূলত যারা প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একেবারেই নিবন্ধিত নয়, প্রধানত তারাই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানামুখী ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর অপতথ্য উপস্থাপন বা প্রচার করেন।’

প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী সংসদকে আরও আনুষ্ঠানিকভাবে জানান যে, অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে এ ধরনের ক্ষতিকর অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইতোমধ্যে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ দল বা টিম গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষ দলটি সার্বক্ষণিকভাবে পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ বা মনিটরিং করছে। একই সাথে যারা এই অপপ্রচারের সাথে সরাসরি জড়িত, তাদের সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কীভাবে দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম জোরকদমে চলছে। প্রতিমন্ত্রী আরও আশ্বস্ত করেন যে, খুব শিগগিরই এই বিশেষ মনিটরিং দলের কাজের পরিধি ও বিস্তারিত বিবরণ সবার সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর