রাজধানীর ব্যস্ততম মৌচাক এলাকায় প্রকাশ্য রাস্তায় এক রাজনৈতিক নেতাকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৮ জুন) রাতে মৌচাকের ঐতিহ্যবাহী আনারকলি মার্কেটের সামনে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। নিহত ওই নেতার নাম বিল্লাল হোসেন তালুকদার, যিনি মাঠপর্যায়ের একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। হঠাৎ রাতের ব্যস্ত সময়ে এই ধরনের সহিংস অপরাধের ঘটনায় পুরো মৌচাক ও মালিবাগ এলাকায় তীব্র আতঙ্ক এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পরপরই রক্তাক্ত অবস্থায় বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে উদ্ধার করে অনতিবিলম্বে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এবং দক্ষ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা সরাসরি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, নিহত বিল্লাল হোসেন তালুকদারের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে বুকে ও পেটে মারাত্মক ও গভীর ছুরিকাঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। ধারালো অস্ত্রের এই আঘাতগুলো অত্যন্ত নিখুঁত ও পরিকল্পিত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরিদর্শক মো. ফারুক আরও জানান যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট রমনা ও শাহজাহানপুর থানা পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল এবং হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। ঠিক কী কারণে, কার বা কাদের মাধ্যমে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি উদ্ঘাটন করতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ইতিমধ্যেই নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে।
নিহত বিল্লাল হোসেন তালুকদারের পারিবারিক ও রাজনৈতিক স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, তিনি জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। স্থানীয়ভাবে তার যথেষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ছিল। ঘটনার দিন রাতে তিনি স্থানীয় একটি সামাজিক বা পারিবারিক বিরোধের সালিশ বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য এবং বিষয়টি মীমাংসা করতে মৌচাক এলাকায় যান। আনারকলি মার্কেটের সামনে যখন সেই সালিশ বৈঠক বা আলোচনা চলছিল, তখন উপস্থিত কিছু ব্যক্তির সাথে কোনো একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে বিল্লাল হোসেনের তীব্র বাগবিতণ্ডা ও কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে প্রতিপক্ষরা অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি বের করে তার ওপর অতর্কিত ও উপর্যুপরি হামলা চালায়।
হামলাকারীরা বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে একাধিক ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার ওপর ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আশেপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের এই সাবেক আহ্বায়কের এমন আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুর খবরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে গভীর শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সালিশ বৈঠকে কারা কারা উপস্থিত ছিল এবং সিসিটিভি ফুটেজে কাদের পালিয়ে যেতে দেখা গেছে, তাদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।