আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে মাঠে নামার আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে বড় জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দলের প্রাণভ্রমরা লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সে ভর করে আইসল্যান্ডকে ৩–০ গোলে অনায়াসে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে না নামলেও এই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই খেলার ভাগ্য বদলে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মহোৎসবের বিশ্বমঞ্চে নামার আগে এই বড় জয় কোচ লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় আর্জেন্টিনা। অবশ্য ম্যাচের প্রথম তিন মিনিটের মাথায় আইসল্যান্ড একটি স্পষ্ট গোলের সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৭ মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পায় তারা। প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি ফাউলের শিকার হন জোসে ম্যানুয়েল লোপেজ। ফ্রি কিক থেকে জিওভানি লো সেলসো ছোট পাস বাড়ান ফাকুন্দো মেদিনার কাছে। তিনি দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে চমৎকার ক্রস বাড়ালে হেডে বল নামিয়ে দেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। আইসল্যান্ডের রক্ষণভাগ বলটি বিপদমুক্ত করার চেষ্টা করলেও তা বক্সের ঠিক বাইরে অপেক্ষায় থাকা ভ্যালেন্তিন বারকোর পায়ে পড়ে। এক মুহূর্ত দেরি না করে বারকো জোরাল শটে বল জালের ডান দিকের নিচের কোণে পাঠিয়ে দেন। দুর্দান্ত এই ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনাকে ১–০ গোলে এগিয়ে দেন তিনি। লাল-সবুজের জার্সি গায়ে এটি বারকোর দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক গোল। এগিয়ে যাওয়ার পর প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হলে ১–০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
বিরতির পরও মাঠের আধিপত্য ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। তবে ফরোয়ার্ড লাওতারো মার্তিনেজের ফিনিশিং ব্যর্থতায় গোল আসছিল না। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে স্টেডিয়ামজুড়ে উপস্থিত হাজারো দর্শকের তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্যে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। মাঠে নেমেই নিজের চিরচেনা ফুটবল শৈলীর জাদু দেখান এলএমটেন। অসাধারণ এক থ্রু পাস বাড়ান লাওতারো মার্তিনেজের উদ্দেশ্যে। মার্তিনেজ আইসল্যান্ডের গোলকিপার এলিয়াস রাফিন ওলাফসনের মাথার ওপর দিয়ে বল চিপ করার আগমুহূর্তে ফাউলের শিকার হন। রেফারি সাথে সাথে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ৭২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে গোল করতে একদম ভুল করেননি মেসি। মাঠে নামার মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় এই গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন অধিনায়ক।
ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়। এবারও গোলের উৎস ছিলেন সেই মেসি। ম্যাচের অন্তিম সময়ে মেসির তৈরি করা চমৎকার এক আক্রমণ থেকে আর্জেন্টিনার হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন তরুণ মিডফিল্ডার থিয়াগো আলমাদা। সব মিলিয়ে ৩–০ গোলের এক দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের ফলে ৩ ম্যাচ খেলে নিজেদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি সফলভাবে সম্পন্ন করল আর্জেন্টিনা। আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় পর্দা উঠছে বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। যেখানে আগামী ১৭ জুন বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা।