ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ নিহত


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৭ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:২১ পিএম

সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে দুটি ট্রাকের মধ্যকার অসুস্থ গতির প্রতিযোগিতা কেড়ে নিলো এক ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তার প্রাণ। মঙ্গলবার (১৬ জুন ২০২৬) বিকেলে সয়দাবাদ রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণ পাশে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাকচাপায় নিহত হন এটিএসআই নুরুল ইসলাম। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি মহাসড়কের অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল ও চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরেছে।

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, নিহত নুরুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ সদর ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় মহাসড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে আসা দুটি ট্রাক একে অপরকে ওভারটেকিং করার জন্য পাল্লাপাল্লি করছিল। ট্রাকচালকদের এই গতির প্রতিযোগিতার এক পর্যায়ে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কর্তব্যরত এটিএসআই নুরুল ইসলামকে সজোরে চাপা দেয়। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহত নুরুল ইসলাম বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার বোহাইল গ্রামের আফসার আলীর সন্তান। কর্মস্থলে তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মী ও পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই ঘাতক ট্রাকটিকে জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালকও এই দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

ওসি আমিরুল ইসলাম আরও জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ঘাতক ট্রাকের চালকের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে কঠোর মামলা দায়ের করা হবে। চালক সুস্থ হওয়ার পরপরই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ এখন এই দুর্ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে, বিশেষ করে ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ করে কেন এমন গতির প্রতিযোগিতা করা হচ্ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জের এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে প্রায়ই ভারী যানবাহনগুলোর চালকদের গতির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। ট্রাফিক আইন না মেনে ওভারটেকিং করার প্রবণতা মহাসড়কের নিরাপত্তাকে প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে ফেলছে। সাধারণ মানুষের মতে, মহাসড়কে পুলিশের কড়া নজরদারি এবং চালকদের লাইসেন্স ও গতির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এমন দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব নয়। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা এভাবে অকালে প্রাণ হারানোয় সাধারণ জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা চালকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর