ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

দল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত আদালতের এক্তিয়ার, আমাদের কিছু করার নেই: তথ্য উপদেষ্টা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৩ জুন, ২০২৬ সময় : ৩:৩৫ পিএম

বর্তমানে রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগ দল হিসেবে চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, সেই স্পর্শকাতর বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে অবস্থিত তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সরকারের সাপ্তাহিক গণমাধ্যম ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই শীর্ষ উপদেষ্টা পরিষ্কার করে জানান, আওয়ামী লীগ নামক দলটিকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে কি হবে না—তা পুরোপুরি নির্ধারিত হবে দেশের আদালত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি)। সেখানে দলটির বিরুদ্ধে আনীত মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। তবে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সার্বিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, ট্রাইব্যুনালে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকার সুবাদে ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনের অধীনে আওয়ামী লীগের সমস্ত কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, এই আইনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দলটি যদি এখন কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বা সমাবেশ নিয়ে রাজপথে নামার ধৃষ্টতা দেখায়, তবে তা একটি সুস্পষ্ট আইনভঙ্গকারী কাজ হিসেবে গণ্য হবে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।

আইনি বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি নিষিদ্ধ এই দলটির বর্তমান রাজনৈতিক সামর্থ্য নিয়েও কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি মনে করেন না যে আওয়ামী লীগের এখন রাজপথে বড় কোনো বিশৃঙ্খলা করার মতো ন্যূনতম নৈতিক সাহস অবশিষ্ট রয়েছে। তাঁর মতে, মাঠে দাঁড়িয়ে কথা বলার জন্য মানুষের যে প্রাথমিক নৈতিক জোর প্রয়োজন হয়, তা দলটির নেই। প্রচলিত প্রবাদের কথা টেনে তিনি রসাত্মকভাবে বলেন, চোরের মায়ের বড় গলা তখনই হতে পারে, যখন দেশের মানুষের স্মৃতিশক্তি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। দেশের সকল নাগরিক যখন ‘ডিমেনশিয়া’ বা স্মৃতিভ্রম রোগে আক্রান্ত হবেন, ঠিক তখনই হয়তো আওয়ামী লীগ এসে রাজপথে বড় গলায় কথা বলার সুযোগ পাবে, তার আগে কোনোভাবেই নয়। কারণ, দেশের সম্পদ লুটপাটকারী, রাজনৈতিক মাফিয়া এবং চোর-বাটপারদের আসলে কোনো ধরনের নৈতিক শক্তি থাকে না।

একটি রাজনৈতিক দলকে আইনিভাবে নিষিদ্ধ করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য কতটা ইতিবাচক—এমন এক জটিল প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের মতামত তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুই-তিন দিন আগেই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন যে আওয়ামী লীগ মূলত কোনো আদর্শিক রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি একটি মাফিয়া চক্র। এই একই কথা তিনি নিজেও দীর্ঘ বহু বছর ধরে বলে আসছেন। তিনি আরও বলেন, যেকোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিতে এবং নির্দিষ্ট প্যারামিটারের ভেতরে একটি দলকে অবশ্যই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হয়। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেও এই কারণেই রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার নজির রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জার্মানির একটি দলের কথা উল্লেখ করেন, যারা নির্বাচনে ২০ শতাংশ ভোট এবং আসন পাওয়ার পরও তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব থাকবে কি থাকবে না, তা নিয়ে সেখানে তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।

উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, অনেকেই যুক্তি দেন যে আওয়ামী লীগের একটি বিপুল জনসমর্থন বা ভোটব্যাংক রয়েছে। কিন্তু বিষয়টি যদি এভাবে চিন্তা করা হয়—দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ যদি কোনো উগ্রপন্থী কিংবা চরমপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠীকেও সমর্থন করে, তবে কি সেই সমর্থন থাকার কারণে তাদেরকে দেশের ভেতরে নির্বিঘ্নে উগ্রবাদী কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে? উত্তর অবশ্যই হবে—না। কারণ একটি প্রকৃত প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কিছু মৌলিক শর্ত এবং অলঙ্ঘনীয় নীতি থাকে, যা সবাইকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি যেহেতু আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত, তাই এই সম্পূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়াটি যেভাবে সম্পন্ন হবে, সরকার সেই আইনি রায়কেই সানন্দে মেনে নেবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর