ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রার সমাবেশস্থলে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি এর পেছনে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন দলটির আহ্বায়ক এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার স্পষ্ট দাবি, এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা যেমন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চরম ব্যর্থতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, ঠিক তেমনি এর পেছনে গভীর কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নীল নকশাও থাকতে পারে। সোমবার রাতে সাভার মডেল থানা প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকাশ্য সমাবেশে এ ধরনের নাশকতামূলক ঘটনা ঘটার মানেই হলো পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও ব্যর্থতা। তারা মনে করছেন, সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি এর পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মহলের ইন্ধন রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ বাহিনীকে যদি দলীয় স্বার্থে ও রাজনৈতিকভাবে পরিচালনা করা হয়, তবে তারা এই জাতীয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। এই বর্বরোচিত হামলার সঙ্গে প্রকৃত যারা জড়িত, তাদের যদি অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়, তবেই কেবল পুলিশ নিরপেক্ষভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করছে কি না, সেটি জনগণের কাছে স্পষ্ট হবে।
সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে এনসিপি নেতা অভিযোগ করেন, সমাবেশস্থলে ঠিক যখন বিস্ফোরণটি ঘটে, তখনই রহস্যজনকভাবে বিদ্যুৎ চলে যায়। আর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সেখানে দায়িত্বরত পুলিশের কোনো তৎপরতাই চোখে পড়েনি। পরবর্তীতে কিছু পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেও, তারা পরিবেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারা এখন আর মুখে কোনো ফাঁকা বুলি শুনতে চান না। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই পুলিশকে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে। কারণ এই মুহূর্তে সাভারের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হলো সবচেয়ে বড় বিষয়।
এই হামলায় আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নিতে তারা দ্রুতই হাসপাতালে যাবেন বলে জানান নাহিদ ইসলাম। একই সাথে তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, এই কাপুরুষোচিত হামলার ভয় দেখিয়ে তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি স্তব্ধ করা যাবে না। যত বাধাই আসুক না কেন, তাদের ‘জুলাই পদযাত্রা’ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রাজপথে চলমান থাকবে।
এদিকে দলটির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন জানিয়েছেন, এই বিস্ফোরণের ঘটনায় তাদের অন্তত চারজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন—মো. শাহীন খন্দকার, মো. জসিম, মো. শাহাদাত হোসেন এবং ইমরান হোসেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং বাকি একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসান জানান, আহতদের মধ্যে একজনের পায়ে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই তাদের শারীরিক অবস্থার প্রকৃত ও বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।
দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত জানান, সমাবেশে যখন ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য রাখছিলেন, ঠিক তখনই হঠাৎ এই বিস্ফোরণ ঘটে। সেই সময় মঞ্চে দলের শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি এবং মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকলেও সৌভাগ্যবশত তারা কেউ আঘাত পাননি। পরবর্তীতে এই ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে সাভারের রাজপথে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই পদযাত্রা কোনো অবস্থাতেই থামবে না বলে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে।