ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণের তাণ্ডব; মাঝপথে থামল কক্সবাজারের ট্রেন, দুর্ভোগে যাত্রীরা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৭ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৭:১১ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ টানা বর্ষণ ও এর ফলে সৃষ্ট তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে রেললাইনের ওপর ব্যাপক পানি জমে যাওয়ায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী আন্তঃনগর ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটির যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের জানজটপূর্ণ ষোলশহর স্টেশন এলাকায় রেললাইন সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে তলিয়ে গেলে রেলওয়ে কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লাইনের ওপর পানির উচ্চতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল সচল রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি ষোলশহর স্টেশন এলাকা অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। ঠিক ওই মুহূর্তে আকস্মিক ভারী ও তীব্র বৃষ্টির ফলে রেললাইনের ওপর অনেক উঁচুতে পানি জমে যায়। এই অবস্থায় ট্রেনটি সামনে এগিয়ে নিলে ট্রেনের মূল ইঞ্জিনে সরাসরি পানি প্রবেশ করে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়া কিংবা ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে বড় কোনো দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে লোকোমোটিভ মাস্টার বা চালক তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনটি থামিয়ে দিতে বাধ্য হন। এর পর থেকেই শত শত পর্যটক ও যাত্রীসহ ট্রেনটি ওই এলাকায় আটকা পড়ে আছে।

বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে রেলওয়ের দায়িত্বশীল এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, ট্রেনের শত শত সাধারণ যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তা ও ট্রেনের সুরক্ষার কথা সর্বোচ্চ বিবেচনা করেই ট্রেনটি বর্তমানে ষোলশহর এলাকায় থামিয়ে রাখা হয়েছে। রেলওয়ের প্রকৌশলীরা প্রতিনিয়ত মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। রেলওয়ে কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই রুটে ট্রেন চলাচল আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি না কমা পর্যন্ত কোনো ট্রেনকে এই লাইন দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।

এদিকে মাঝপথে হঠাৎ ট্রেন থামিয়ে দেওয়ার ফলে সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজারগামী সাধারণ যাত্রীরা এই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে চরম ও অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে ট্রেনের ভেতরে থাকা নারী ও শিশুদের নিয়ে অনেকে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন। কারণ চারপাশেই তখন থৈ থৈ করছিল পানি। যাত্রীদের এই দুর্ভোগ ও ভোগান্তি কিছুটা কমাতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের জরুরি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে আরেকটি শক্তিশালী উদ্ধারকারী ইঞ্জিন এনে ট্রেনটিকে পুনরায় উল্টো বা পেছনে টেনে নিয়ে প্রধান চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ফিরিয়ে নেওয়ার জোর প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া চলছে। তবে রেলওয়ে কতৃপক্ষ আশ্বস্ত করে জানায়, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং যাত্রীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের কারিগরি টিম সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর