ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

ক্লান্ত মেসির দিনে আলভারেজ-লাউতারো জাদুতে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা


  • আপলোড সময় : রবিবার ১২ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৩:৪১ পিএম

ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার নকআউট পর্বের ম্যাচ মানেই যেন কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং এক চরম আবেগের নাম। আলবিসেলেস্তেরা যখনই খাদের কিনারায় পৌঁছায়, তখনই যেন অলৌকিকভাবে জেগে ওঠে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের মহানাটকীয় ম্যাচেও দেখা গেল সেই চেনা রূপ। একজন কম নিয়ে খেলেও যখন সুইসরা দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে ম্যাচটিকে টাইব্রেকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই হুলিয়ান আলভারেজের এক জাদুকরী গোল পুরো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। আর অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে লাউতারো মার্টিনেজের করা তৃতীয় গোলের পর গ্যালারিতে থাকা আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মাঝে বাঁধভাঙা উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে।

ম্যাচ শেষ হতেই গ্যালারি থেকে ভেসে আসে বহুল প্রতীক্ষিত সেই স্লোগান, ‘যে লাফায় না, সে একজন ইংরেজ’। নরওয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জয়ের পর থেকেই মনে মনে এই ম্যাচের স্বপ্ন বুনছিল আকাশী-সাদারা। তবে দুর্ভাগ্য এড়ানোর জন্য ম্যাচের আগে কেউ এই গান ধরেনি। বিশ্বমঞ্চে ইংলিশদের মুখোমুখি হওয়াকে আর্জেন্টিনা সবসময়ই ভিন্ন এক আবেগের চোখে দেখে।

অথচ মাঠের লড়াইয়ে জয় পাওয়াটা আর্জেন্টিনার জন্য কল্পনার চেয়েও কঠিন ছিল। চলমান টুর্নামেন্টের নকআউট ম্যাচগুলোতে দলটি যেন কোনোভাবেই নিজেদের চেনা ছন্দে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছে না। পিছিয়ে পড়লে যেমন ধুঁকতে হচ্ছে, তেমনি লিড নেওয়ার পরও তা ধরে রাখতে জানপ্রাণ দিয়ে লড়তে হচ্ছে। সুইজারল্যান্ড শুরু থেকেই শারীরিক ফুটবল খেলে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের রক্ষণভাগের সামনে কঠিন দেওয়াল তুলেছিল। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে ডিফেন্সের কয়েক সেকেন্ডের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে এনদোয়ে গোল করে সুইসদের সমতায় ফেরান। এর আগে ব্রিল এম্বোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। লাল কার্ডের পর আর্জেন্টিনার বল পজেশন ৭৬ শতাংশে পৌঁছালেও সুইসরা লড়াই ছাড়েনি।

পেনাল্টির শঙ্কায় থাকা ম্যাচে আর্জেন্টিনার জন্য আবারও ‘অলৌকিক’ ত্রাতা হয়ে আসেন হুলিয়ান আলভারেজ। বক্সের বাইরে প্রায় ২৭ মিটার দূর থেকে নেওয়া তাঁর ডান পায়ের এক দর্শনীয় কোণাকুনি শট দূরের পোস্ট দিয়ে সুইজারল্যান্ডের জাল কাঁপায়। খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ছিল অধিনায়ক লিওনেল মেসির নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স। মেসির পাস থেকে প্রথম গোল আসলেও পুরো ম্যাচে তিনি ছিলেন ক্লান্ত। প্রথমার্ধে মাত্র একটি শট নেওয়া মেসি টানা ৯ ম্যাচে গোল করার পর অবশেষে এই ম্যাচে এসে থামলেন। আগের ম্যাচগুলোর ধকলই যেন তাঁর খেলায় প্রভাব ফেলেছিল।

মেসি ম্যাজিক না চললেও এই ম্যাচে স্কালোনির দলগত ও ব্যক্তিগত কৌশলের জয় হয়েছে। দুই স্ট্রাইকারের জায়গায় শেষ পর্যন্ত মাঠে ছিলেন তিন জন ফরোয়ার্ড। আলভারেজের গোলে সহায়তা করেন স্ট্রাইকার হোসে মানুয়েল লোপেজ এবং আলামাদার ফিনিশিং ব্যর্থতার পর শেষ স্বস্তি এনে দেন লাউতারো মার্টিনেজ। স্কালোনির এই ৪-১-৫ ফরমেশনের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও আপাতত আর্জেন্টিনার নিশ্চিত আনন্দ এই যে, তারা বিশ্বকাপের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত টিকে থাকছে। তবে টানা তিন ম্যাচের ধকল এবং অতিরিক্ত ৬০ মিনিট খেলার ক্লান্তি কাটিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাঠে নামার আগে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়াই এখন লিওনেল স্কালোনির দলের প্রধান লক্ষ্য।


এ সম্পর্কিত আরো খবর