ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান কিছুটা বদলেছেন বলিউডের ভাইজান খ্যাত তারকা সালমান খান। আন্দোলনের শুরুর দিকে শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি সরাসরি সমর্থন জানিয়ে এটিকে কোনোভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। তবে এবার রাজপথে নামা ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের নিজেদের ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন এই জ্যেষ্ঠ অভিনেতা। একই সঙ্গে বিভ্রান্ত না হয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের চিন্তিত অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আশ্বাস ও আইনি ব্যবস্থার ওপর গভীর আস্থা রাখার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় সালমান খান বলেন, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাগত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং দেশের সোনালী ভবিষ্যৎ বিবেচনায় তাদের দাবিগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি অপরাধীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কঠোর ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন। মূলত এই কারণেই অনাকাঙ্ক্ষিত রক্তক্ষয় এড়াতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজপথ ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে শান্ত থাকার বিশেষ অনুরোধ জানান তিনি।
এর আগে গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের স্কুলজীবনের এক বিরল পুরোনো ছবি পোস্ট করে শিক্ষার্থীদের প্রতি সোচ্চার সমর্থন জানিয়েছিলেন সালমান। সেখানে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসকে গোটা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক এক ব্যধি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের এই অরাজনৈতিক ও সতস্ফূর্ত আন্দোলনকে কেউ যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে, তার ওপর জোর দিয়ে এর যাবতীয় কৃতিত্ব সরাসরি শিক্ষার্থীদেরই দেওয়া উচিত বলে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছিলেন।
অভিনেতা সালমান খান আরও বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যেভাবে সংগঠিত হয়ে এতদিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে এসেছে, তা সত্যিই অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি একটি টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে শিক্ষার্থীদের এইভাবে একতাবদ্ধ হওয়াকে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক চোখে দেখেন।
তবে অহিংস আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও মারাত্মক সহিংসতার ঘটনা ঘটায় গভীর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সালমান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলায় আহত নিরীহ শিক্ষার্থী ও তাদের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর ভাষ্যমতে, প্রশ্নফাঁস দেশের শিক্ষাকাঠামোর জন্য অতি গুরুতর এক জাতীয় সমস্যা এবং এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়টি সরকারের অতি গুরুত্বের সঙ্গে সমাধান করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, সালমানের সুর বদলানোর আগে বলিউডের একাধিক প্রথম সারির তারকা ও সংস্কৃতিকর্মী সোচ্চার হয়ে শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছিলেন। তারকাদের তালিকায় ছিলেন ওমি বৈদ্য, প্রবীণ অভিনেত্রী জিনাত আমান, নাসিরুদ্দিন শাহ, রত্না পাঠক শাহ, অভয় দেওল, সোনাক্ষী সিনহা এবং রিতেশ দেশমুখের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিবর্গ। তারা প্রত্যেকেই শিক্ষার্থীদের দাবির পাশে দাঁড়িয়ে কোনো উসকানিতে না পা দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।