বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনা চলার মধ্যেই নিজের পছন্দের প্রার্থীর নাম প্রকাশ্যে এনেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিশেষ স্ট্যাটাসে তিনি প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বর্তমান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের আগামী রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য ও সেরা প্রার্থী হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টটিতে ড. আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘‘আমার মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ পদে সার্বিক দিক থেকে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। শেখ হাসিনার দীর্ঘ দুঃশাসনকালে তিনি সফলভাবে দলের মহাসচিব হিসেবে হাল ধরেছেন, রাজনৈতিকভাবে বহুভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং অপার ত্যাগ স্বীকার করেছেন। দেশের মূলধারার রাজনীতিবিদদের মধ্যে তিনি অত্যন্ত মডারেট, সদাচারী ও সুবক্তা হিসেবে সর্বাগ্রে গণ গণ্য হন।্’’
স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল আরও উল্লেখ করেন, ‘‘দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘদিনের চমৎকার ও গভীর বোঝাপড়ার সুসম্পর্ক রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছেও তিনি ছিলেন পরম সন্তানসম একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা। বিএনপিতে এই পদের জন্য উপযুক্ত আরও অনেকেই আছেন, তবে আমার মতে সব দিক বিবেচনা করলে মির্জা ফখরুলই সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন। প্রবীণ রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকে কাউকে যদি রাষ্ট্রপতির আসন অলঙ্কৃত করতে দেওয়া হয়, তবে তিনি সম্ভবত সেরা প্রার্থী হবেন।্’’
এর আগে একই দিন শুক্রবার গুরুতর শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দায়িত্ব ছাড়ার আনুষ্ঠানিক কারণগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন, ‘‘আমি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতাজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে ইতিমধ্যে ওপেন হার্ট বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি শারীরিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষায় আমার অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামক বিরল ব্যাধি শনাক্ত হয়েছে। এই জটিল রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝেই হঠাৎ ক্ষণিক সচেতনতা হারিয়ে ফেলি বা অচেতন হয়ে পড়ি। এসব মারাত্মক রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার তৈরি হওয়ায় রাষ্ট্রপতির মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘমেয়াদি নিবিড় চিকিৎসার পরম প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের স্পষ্ট বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি।