ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

উচ্চমূল্যের কারণে বন্ধ পদ্মার ইলিশ রপ্তানি, বেনাপোল দিয়ে আসছে ভারতীয় ইলিশ


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৭:৫৩ পিএম

ভারতে বাংলাদেশি পদ্মার ইলিশের কদর ও চাহিদা সবসময়ই তুঙ্গে। তবে দেশের বাজারে অতিরিক্ত দাম হওয়ায় বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশি ইলিশ রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে ভারত মহাসাগরে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ায় এবং দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে উল্টো ভারতীয় ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে। প্রতি কেজি সাইজভেদে ২ থেকে ৪ ডলার মূল্যে দেশের বাজারে আসছে এই ভারতীয় ইলিশ।

বন্দর ও কাস্টমস সংশ্লিষ্টরা জানান, বেনাপোলসহ দেশের বিভিন্ন শুল্ক স্টেশন দিয়ে নিয়মিত সাদা মাছ আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। ভারতে বাংলাদেশি ইলিশের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও অধিক মূল্যের কারণে পদ্মার সুস্বাদু রুপালি ইলিশ রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে ভারতীয় সাদা মাছ রুই, কাতলার পাশাপাশি ইলিশের আমদানি প্রবাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, একসময় বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রচুর পরিমাণে বাংলাদেশি ইলিশ ভারতে রপ্তানি হতো। তবে বর্তমানে ৬০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের দেশীয় ইলিশের দাম বাজারে ৮০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে ভারত মহাসাগরের আন্দামান দ্বীপে ধরা পড়া ইলিশের দাম ৪-৭ শত রুপি। যে কারণে সেখান থেকে কম মূল্যে ইলিশ আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে। তবে স্বাদের দিক দিয়ে ভারতীয় এই মাছ বাংলাদেশি ইলিশের চেয়ে কিছুটা কম বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৬ হাজার কেজি ভারতীয় ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। সাইজভেদে প্রতি মেট্রিক টন ২ হাজার থেকে ৪ হাজার ডলারে আমদানি হচ্ছে। বন্দর, কাস্টমস ও যাতায়াত খরচ মিলিয়ে ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ভারতীয় ইলিশের আমদানি মূল্য পড়ছে সাড়ে ৪ শত থেকে ৫০০ টাকা এবং ৭০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশের ক্ষেত্রে খরচ পড়ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। যদিও দেশের খুচরা মাছের বাজারে এই ভারতীয় ইলিশ বেশ চড়া দামেই বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান সাধারণ ভোক্তারা।

বাংলাদেশ-ভারত চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, বাংলাদেশি ইলিশের অস্বাভাবিক দামের কারণে ভারত রপ্তানির বাজার হারাচ্ছে দেশ। অপরদিকে ভারত অংশে মহাসাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় কম দামে সেগুলো বাংলাদেশে রপ্তানি হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে আর ভারতের ডলার আয় বাড়ছে। তিনি জানান, দেশের বাজারে ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের দেশি ইলিশ বর্তমানে ২ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বন্দর ব্যবহারকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশে সাধারণ মানুষের জন্য ইলিশ মাছ যেন এখন সোনার হরিণ। রপ্তানি বন্ধ থাকায় দেশের অনেক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও বন্দর সংশ্লিষ্টরা বেকার হয়ে পড়েছেন।

বেনাপোল কাস্টমসের সুপারিনটেনডেন্ট আরিফুল ইসলাম জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে সাদা মাছ আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক থাকলেও বাংলাদেশি ইলিশের রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি বেনাপোল বন্দরে ভারত থেকে মিথ্যা ঘোষণায় আনা ১২ কার্টন ভারতীয় ইলিশ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জব্দ করেছে বলেও জানান তিনি।

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণত বিকাল থেকে রাতের মধ্যে মাছের চালান আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। বৈধ পথে মাছ আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সাথে দ্রত খালাস প্রক্রিয়ায় সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর