ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারত থেকে আমদানি করা চালে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান, বিতরণ স্থগিত জাপানে ফ্লাইটে ত্রুটির ঘটনায় বিমানের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন চাকরির বহাল তবিয়তে ওকালতি! বিপাকে সরাইল থানার ওসি রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন নারিতায় বিমানে ত্রুটি: সফরসঙ্গীদের নিয়েই দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তাহসিফ হত্যা রহস্য: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বন্ধু দ্বীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর পাঁচজনের মরদেহ আসছে শনিবার বরগুনার ডাকবাংলোর ৩ মরদেহ উদ্ধার: চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন ৫০ গজ দূর থেকে বাইক উদ্ধার, বন্ধু দ্বীপকে জেরা করছে পিবিআই স্পিন ঘূর্ণিতে ক্যারিবীয়দের গুঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড, রেকর্ড নাঈমের

ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, তবুও মিলছে না সিএনজি


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৩:৫৩ পিএম

দেশজুড়ে তীব্র কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) সংকটের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা দিয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কোথাও কোথাও গ্যাসের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের লাইন কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত সিএনজি পেতে চালকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।


উত্তরার বিমানবন্দর সংলগ্ন মেসার্স মাসুদ এন্টারপ্রাইজে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পের সামনে থেকে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়েছে। চালকদের অনেকেই জানিয়েছেন, সামান্য একটু গ্যাসের জন্য তারা ভোর ৪টা থেকেই লাইনে অপেক্ষা করছেন। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেট কার চালক লালচাঁন জানান, গ্যাস নিতে ভোর ৫টায় এসে তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা তীব্র অপেক্ষার পর বেলা ১১টায় মাত্র ১৭০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। তবে এই সামান্য গ্যাসে তিনি কর্মস্থল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে চরম শঙ্কা ও সংশয় প্রকাশ করেছেন।


দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন আরও অসংখ্য চালক। ইমরান নামের একজন প্রাইভেট কার চালক জানান, দক্ষিণখান থেকে গ্যাস নিতে এসে উত্তরার একাধিক পাম্প ঘুরে ভোর ৬টায় লাইনে দাঁড়ান তিনি। সড়কের দীর্ঘ সারি পেরিয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর তিনি মাত্র ২১৭ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস না পাওয়ায় চরম আক্ষেপ ও হতাশা নিয়েই তিনি পাম্প ত্যাগ করেন।


গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগী চালকরা। মগবাজার থেকে গ্যাস নিতে আসা কামরান নামের এক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাম্পে থাকা অসাধু লোকজন ১০০ থেকে ২০০ টাকার বিনিময়ে লাইন উপেক্ষা করে অনেককেই আগে গ্যাস সরবরাহ করছেন।


তবে পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশব্যাপী জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চরম সংকট থাকায় তারাও পাম্পে সরবরাহ কম পাচ্ছেন। এর মধ্যে যেটুকু গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, তাতেও পর্যাপ্ত প্রেসার বা চাপ থাকছে না। ফলে সিএনজি স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি দাঁড়িয়ে থেকেও যানবাহনে পর্যাপ্ত গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।


এদিকে সামিট এলএনজি টার্মিনাল গতকাল সন্ধ্যা থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে বলে এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে বাসস। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বাসসকে জানান, সামিট শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে তাদের এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) থেকে নতুন করে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা আশা করছে, ধীরে ধীরে গ্যাসের চাপ বাড়বে এবং মধ্যরাতের মধ্যে পূর্ণমাত্রায় সরবরাহে পৌঁছাবে।


পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আরও জানান, একই সঙ্গে এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ থেকেও নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে, যাতে জাতীয় গ্রিডে সার্বিক গ্যাসের সরবরাহ দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হয়। উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সারা দেশে গ্যাসের মূল সরবরাহ резко কমে গিয়ে সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করে। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভয়াবহ বিঘ্ন ঘটে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমায় বৃদ্ধি পায় তীব্র লোডশেডিং। একই সাথে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও যানবাহনে গ্যাস নিতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর