ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬,  ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুর আদালতে এক বিচারপ্রার্থীর অভিজ্ঞতা: আইনি পেশার মর্যাদা ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি প্রশ্ন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে এসে আটক যুবলীগ কর্মী অর্ণব দাস দুই আসামির ফাঁসির আপিল হাইকোর্টের কার্যতালিকায় সীতাকুণ্ডে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে মিলল বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড ব্রিটেনকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ বলে নজিরবিহীন কটাক্ষ নেতানিয়াহুর বাংলাদেশে নীরব ঘাতক হয়ে উঠছে প্যারাকোয়াট হাসানের পর তাইজুলের আঘাত, চাপে অস্ট্রেলিয়া ১ হাজার শয্যায় উন্নীত হলো ঢাকার নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম: চলতি বছরে ১০৪ বার সমন্বয় ওয়েদারাল্ডের পর এবার ট্রাভিস হেডকেও বোল্ড করলেন হাসান

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ:

দুই আসামির ফাঁসির আপিল হাইকোর্টের কার্যতালিকায়


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১২:৫৩ পিএম

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার আলোচিত মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের জেল আপিল এবং ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটি আগামী রোববারের (১৬ আগস্ট) জন্য নির্ধারিত বিচারিক কার্যতালিকার ২২ নম্বর ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


নিহত শিশু রামিসা পরিবারের সঙ্গে পল্লবীর একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মামলার আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারও ভুক্তভোগী রামিসার পরিবারের সঙ্গে একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে সাবলীন হিসেবে বসবাস করতেন। গত ১৯ মে রামিসাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরপরই কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ১ নম্বর প্রধান আসামি সোহেল রানা কৌশলে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে টেলিফোনে প্রাপ্ত খবরের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসামি স্বপ্না খাতুনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। অন্যদিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে পলাতক প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।


এই মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনার পর রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশি গ্রেপ্তারের পর ২১ মে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। আদালতে স্বীকারোক্তি শেষ হওয়ার পর বিজ্ঞ আদালত দুই আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২৫ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দ্রুত আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। চার্জশিট জমা দেওয়ার দিনই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে ফাইলটি ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় এবং ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৬ জন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন আদালত।


পরবর্তীতে গত ৭ জুন মামলার সকল আইনি দিক বিবেচনা করে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট উল্লেখ করেন যে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা মোতাবেক দুই আসামির মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। তবে নিয়ম অনুযায়ী ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে এই সাজা কার্যকর হবে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং সহ-আসামি স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়, যা ভুক্তভোগী রামিসার আইনি উত্তরাধিকারীদের প্রদানের নির্দেশ দেন আদালত।


উল্লেখ্য, রোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় বিচারিক আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ ছিল, দণ্ডপ্রাপ্তরা জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে কালেক্টরেট অফিসকে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলাম ও বিক্রি করে সংগৃহীত অর্থ রামিসার পরিবারকে হস্তান্তরের নির্দেশ কার্যকর করতে হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর