নিজস্ব প্রতিবেদক:
জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ একদিন পিছিয়েছে। মূল সাক্ষী অসুস্থ থাকায় আদালত বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন দিন ধার্য করেছেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে সময় প্রার্থনা করেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী। তিনি জানান, নির্ধারিত দিনে সাক্ষীর অসুস্থতার কারণে সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি মঞ্জুর করে পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ২২ জুলাই এ মামলার ষষ্ঠ সাক্ষী, হেফাজতে ইসলামের কর্মী তাজুল ইসলাম সুমনের জেরা সম্পন্ন হয়েছিল। জবানবন্দিতে তিনি দীর্ঘ আট বছর বেআইনি আটকে রাখা ও নির্মম নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে শেখ হাসিনাসহ জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
মামলার ১৩ জন আসামির মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত ৩ জন—ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকীকে সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনাসহ পলাতক ১০ আসামির মধ্যে ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ জন মহাপরিচালক (ডিজি)—লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক অন্যতম। এ ছাড়া শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ অন্যান্য সেনা কর্মকর্তারাও এই মামলার পলাতক আসামি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর এ মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।