অনলাইন রিপোর্টার:
পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ হকারি করতে পারবে না, তাদের নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকবে এবং নির্ধারিত এলাকার বাইরে তারা ব্যবসা করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাস্তার ওপর কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না, তবে প্রশস্ত ফুটপাতের কিছু অংশে তাদের সীমিত সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার ‘হলিডে মার্কেট’ এবং অফিস সময় শেষে মতিঝিলে ‘নাইট মার্কেট’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব নির্ধারিত স্থানে হকারদের সুবিধার জন্য টয়লেট ও পরিচ্ছন্নতার সুব্যবস্থা রাখা হবে।
ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে মো. আব্দুস সালাম জানান, ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট, ঢাকা কলেজ ও গ্রিন রোড এলাকার পানি নিষ্কাশনের পুরোনো পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই সব এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি পুনরুজ্জীবিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নিতে হবে, যা হুট করে এক-দুই মাসে সম্ভব নয়। তবে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে নতুন পাম্প কেনা হয়েছে, যার মাধ্যমে এখন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জমে থাকা পানি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ড্রেনে পলিথিন ও বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দোকানদারদের বর্জ্য ফেলার জন্য সামনে বিন বা বালতি রাখার অনুরোধ করা হলেও অনেকে তা মানছেন না। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও নাগরিক সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যেসব ব্যক্তিগত জায়গায় সিটি করপোরেশনের কর্মীরা ঢোকাতে পারেন না, সেখানে ভবন মালিকদেরই জমা পানি ও মশার লার্ভা পরিষ্কারের দায়িত্ব নিতে হবে।
ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, ঢাকার সব রাস্তায় যাতে নির্বিচারে এসব রিকশা না চলতে পারে, সেজন্য অঞ্চলভিত্তিক চলাচলের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অঞ্চলের রিকশা নির্দিষ্ট এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং কিছু প্রধান সড়কে তাদের চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
ডিএসসিসির রাজস্ব বৃদ্ধি ও সমন্বিত নগর ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ওয়াসা, রাজউক ও বিদ্যুৎসহ সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। তিনি আরও যোগ করেন, সিটি করপোরেশনের সমালোচনাকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখেন। জনগণ, গণমাধ্যম ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে কাজ করলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকার চেহারায় বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।