নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম ১৮০ দিনের সময়সীমা বা প্রাথমিক পরীক্ষার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় মন্ত্রিসভার পারফরম্যান্স মূল্যায়নে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনোত্তর সময়ে জনগণের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন মন্ত্রীর কার্যকারিতা, সাফল্য ও ব্যর্থতার বিস্তারিত হিসাব-নিকাশ এখন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুরু থেকেই সরকারের এই প্রাথমিক সময়সীমা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর ছিল। প্রথম কয়েক মাসে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অপ্রত্যাশিত নানা মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডে সরকার কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে—১৮০ দিনের এই পরীক্ষায় কে পাশ করলেন আর কাদের নাম ঝুলছে রদবদলের তালিকায়।
সহযোগী নেতাদের ভাষ্যমতে, দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্দিষ্ট সময়ে কার পারফরম্যান্স কেমন ছিল এবং কে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হয়েছেন, তার নিবিড় খতিয়ান নেওয়া শুরু হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এ প্রেক্ষাপটে জানান, সরকারের নির্ধারিত সময়সীমার ভেতরে মন্ত্রীরা তাদের অর্পিত দায়িত্ব কতটুকু দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পেরেছেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। ফলে এই প্রথম মেয়াদের পরীক্ষায় কারা যথাযথ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হচ্ছেন এবং কারা পেছনে পড়ে থাকছেন, তা দেখার জন্য সবাইকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
এই মূল্যায়ন কি কেবলই কাজের খতিয়ান তৈরিতে সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি খুব শিগগিরই মন্ত্রিসভায় বড় কোনো রদবদল বা ছাঁটাই প্রক্রিয়া আসছে, তা নিয়েও দলের অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ মন্তব্য করেন, প্রথম ১৮০ দিন ছিল মূল কাজের জন্য একটি প্রাথমিক পরীক্ষা মাত্র। আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার জন্য যারা নিজেদের যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করেছেন এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তারাই মূল ধারায় থাকবেন। তবে রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে বা কাজের সুবিধার্থে সরকারপ্রধান যদি কাউকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া কিংবা দপ্তর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন, তবে সেই পূর্ণ এখতিয়ার তাঁর রয়েছে।
অবশ্য মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যে কেবল প্রধানমন্ত্রীর হাতেই সংরক্ষিত, তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন দলের সিনিয়র নেতারা। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্পষ্ট করে জানান, একটি নির্বাচিত সরকারের নির্বাহী প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। মন্ত্রিসভা কখন পুনর্গঠন করা হবে, রদবদল ঘটানো হবে নাকি বর্তমান কাঠামোর ওপরই আস্থা রাখা হবে, তা সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব দায়িত্ব ও বিবেচনার বিষয়। সব মিলিয়ে ১৮০ দিনের এই মূল্যায়ন কেবল স্ব-স্ব মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত দক্ষতার যাচাই নয়, বরং এটি সরকারের জনপ্রত্যাশা পূরণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার এক বড় মাইলফলক।