সিলেট সংবাদদাতা
সিলেট নগরীর রায়নগরের রাজবাড়ী মিতালী আবাসিক এলাকার একটি বাসায় স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাসহ গৃহকর্তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১২টার দিকে পুলিশ ওই বাসা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন— মিতালী ১১১ নম্বর নিকুঞ্জ ভিলার মালিক আব্দুস সত্তার মিয়া (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (১৫)। কী কারণে নিজ বাসায় তাদের খুন করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। আব্দুস সাত্তারের মূল বাড়ি বিয়ানীবাজারে। তাঁর চার সন্তানের মধ্যে এক ছেলে ও এক মেয়ে আমেরিকায় এবং দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। দেশে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি নিজ বাসায় থাকতেন।
পুলিশ সূত্রের খবরে জানা গেছে, বুধবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ বাসার দ্বিতীয় তলায় আব্দুস সাত্তারের ঘরের দরজা ভেঙে তিনজনের মরদেহ দেখতে পায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে তাদের হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা সেখানে ভিড় জমান।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির জানিয়েছেন, ঘরের ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কী উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম এবং পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ কমিশনার জানান, তিনতলা বাসার দোতলার ফ্ল্যাটের বন্ধ দরজার ভেতর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে দরজা খুলে ভেতরে তিনজনের মরদেহ পাওয়া যায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পুলিশ ঘটনার তদন্তে প্রাথমিকভাবে দুটি বিষয়কে সামনে রাখছে। প্রথমত, ডাকাতির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে তাদের খুন করতে পারে; অথবা জমি সংক্রান্ত কোনো পুরানো বিরোধ থেকেও এই ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।