ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬,  ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

রাজশাহীতে গৃহায়নের ১৫০ কোটি টাকার প্লট বেদখল


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৪:৪৮ পিএম

রাজশাহী নগরীর অভিজাত উপশহর আবাসিক এলাকায় বছরের পর বছর বরাদ্দহীন পড়ে আছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ২৩টি প্লট। যার মধ্যে অন্তত ২০টি প্লট দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে দোকানপাট, ক্লাব, রাজনৈতিক কার্যালয় এবং বসতঘর। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পদের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা ও বরাদ্দ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকার সুযোগে বাড়ছে এই অবৈধ দখলদারিত্ব। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ।


স্থানীয়দের মতে, উপশহর এলাকায় প্রতি কাঠা জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮০ লাখ টাকা। সে হিসাবে এসব প্লটের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। সরকারি নিয়মে প্লটগুলো বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হলে প্রায় ৫০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সরকারি সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।


সংস্থাটির তথ্যমতে, ১৯৬২-৬৩ সালে রাজশাহী হাউজিং এস্টেট প্রতিষ্ঠার পর ১৯৮০ সালে উপশহরের প্লট বরাদ্দ প্রক্রিয়া শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে প্রায় দেড় হাজার প্লট বরাদ্দ হলেও শেষ পর্যন্ত ২৩টি প্লট অবরাদ্দকৃত থেকে যায়। পরবর্তীতে আশির দশকের জরিপে ২৬টি প্লট ফাঁকা পাওয়া গেলেও তিনটি প্লট মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হস্তান্তর করা হয়।


সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, ২ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সংরক্ষিত ২৪০/১, ২৪০/২, ২৪০/৩ ও ২৪০/৪ নম্বর প্লটে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। পর্যাপ্ত আবেদন না পাওয়ায় এগুলো বরাদ্দ দেওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অথচ স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক দশক ধরে এসব মূল্যবান জমি প্রভাবশালী চক্রের দখলে রয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত আল মামুন সরকার এসব প্লট দখলে রেখে সেখানে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কার্যালয় স্থাপন করেছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই কার্যালয় ভেঙে সেখানে তৈরি করা হয়েছে যুবদলের কার্যালয়। পাশাপাশি কয়েকটি আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে বসতিও গড়ে তোলা হয়েছে।


অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে ১ ও ৩ নম্বর সেক্টরেও। বরাদ্দহীন ২৩টি প্লটের মধ্যে অন্তত ২০টিই ১ ও ২ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত। ১ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান জানান, অভিজাত এলাকার এসব ফাঁকা জমি দখলের পাশাপাশি মাদকসেবীদের আড্ডা ও বস্তিতে পরিণত হওয়ায় এলাকার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।


৩ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা মাজদারহোসেন অভিযোগ করে বলেন, কিছু প্লট দখল করে ক্লাবঘর তৈরি করা হয়েছে, যেখানে রাতে জুয়ার আসর ও মাদকের কারবার চলে। দ্রুত এগুলো উদ্ধার করে নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দের দাবি জানান অধিবাসীরা।


৩ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা মাজদারহোসেন অভিযোগ করে বলেন, কিছু প্লট দখল করে ক্লাবঘর তৈরি করা হয়েছে, যেখানে রাতে জুয়ার আসর ও মাদকের কারবার চলে। দ্রুত এগুলো উদ্ধার করে নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দের দাবি জানান অধিবাসীরা।


সার্বিক বিষয়ে রাজশাহী গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল সরকার বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত প্লটগুলোর বিপরীতে কোনো আবেদন না পাওয়ায় সেগুলো বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে কোটাব্যবস্থায় পরিবর্তন এলেও নতুন কোন নির্দেশিকা না পাওয়ায় বর্তমানে এগুলো বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে উচ্ছেদ ও বরাদ্দের নতুন সিদ্ধান্ত বা সার্কুলার এলে দ্রুততম সময়ে এসব সরকারি জমি উদ্ধার করা সম্ভব হবে।


কোটাসংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতা ও নতুন নির্দেশনার অভাবে বছরের পর বছর মূল্যবান সরকারি জমি অবরাদ্দকৃত রাখা এবং তা বেদখল হয়ে পড়া নিয়ে নাগরিক সমাজে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত জরিপ পরিচালনা করে এসব প্লট উদ্ধার ও সরকারি বিধি অনুযায়ী বরাদ্দের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর