ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

রাজশাহীতে শব্দদূষণ ১০০ ডেসিবেল ছাড়াল


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৫:৩৬ পিএম

নগরায়ন ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধির সাথে সাথে রাজশাহী নগরীতে শব্দদূষণ আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ দুটি মোড়ে শব্দমাত্রা পরীক্ষায় প্রতিটিতেই ১০০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ রেকর্ড করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মানদণ্ড ছাড়িয়ে যাওয়া এই শব্দদূষণ নগরবাসী ও পরিবেশবিদদের মনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে এবং 'বারিন্দ এনভায়রনমেন্ট'-এর সহযোগিতায় শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নগরীর রেলগেট ও লক্ষ্মীপুর মোড়ে বিদ্যমান শব্দের মাত্রা পরিমাপ করা হয়।

সংস্থাটির প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত রেলগেট এলাকায় পরিমাপ করা শব্দের সর্বোচ্চ গড় মাত্রা পাওয়া যায় ১০১.৫ ডেসিবেল। অন্যদিকে, ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা পর্যন্ত হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেষ্টিত লক্ষ্মীপুর মোড়ে সর্বোচ্চ গড় শব্দমাত্রা পাওয়া যায় ১০২.৬ ডেসিবেল। অথচ গত বছর একই সময়ে উভয় স্থানেই সর্বোচ্চ গড় শব্দমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল প্রায় ৯৭ ডেসিবেল। এক বছরের ব্যবধানে রাজশাহীর বাতাসে শব্দের এই পারদ বৃদ্ধির চিত্র নগর পরিবেশের চরম অবক্ষয়কে স্পষ্ট করে।

বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২২ সাল থেকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট স্থানে একই সময়ে তারা এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এ বছরের গবেষণায় নেতৃত্ব দেন ড. শওকত শরীফ মো. জাকির হোসেন খান (পিএইচডি)। পরিমাপ কার্যক্রমে সহযোগিতায় ছিলেন ড. অরি আহমেদ, শামসুর রহমান শরীফ, ওয়ায়দুল্লাহ, রুমানা আহমেদ, ইফাত আরা, কর্ণি আহমেদ, আবু তারেক বিন আজিজ এবং রুহুল হাসান পরাশ।

উল্লেখ্য, পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনইপি (UNEP)-এর ২০২২ সালের বৈশ্বিক প্রতিবেদনে ঢাকাকে বিশ্বের সর্বাধিক এবং রাজশাহীকে বিশ্বের চতুর্থ শব্দদূষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যেখানে রাজশাহীর গড় শব্দমাত্রা ১০৩ ডেসিবেল বলা হয়। সাম্প্রতিক এই মাঠপর্যায়ের গবেষণা প্রমাণ করে যে, পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংকটাপন্ন হচ্ছে।

বাংলাদেশের শব্দদূষণ বিধিমালা (২০২৫) অনুসারে এলাকাগুলোকে নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক ও শিল্প—এই পাঁচভাগে ভাগ করা হয়েছে। নীতি অনুযায়ী বাণিজ্যিক এলাকায় দিনের বেলায় অনুমোদিত শব্দমাত্রা সর্বোচ্চ ৭০ ডেসিবেল এবং হাসপাতালকেন্দ্রিক ‘নীরব এলাকায়’ তা সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবেল।

এ বিষয়ে ড. শওকত শরীফ বলেন, "রেলগেট এলাকা বাণিজ্যিক হলেও সেখানে ১০১.৫ ডেসিবেল এবং লক্ষ্মীপুর মোড়ের মতো সংবেদনশীল হাসপাতালে ঘেরা এলাকায় ১০২.৬ ডেসিবেল শব্দ পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মূলত অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অতিরিক্ত চাপ এবং দুর্বল ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণই এর প্রধান কারণ। এতে মানবস্বাস্থ্যের চরম ক্ষতির পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে।"

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নিয়মিত সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, মানববন্ধন ও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে আসছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় 'নো হর্ন' নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর