শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী কেন্দ্র করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এবং তার চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই সেখানে পুলিশ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) অতিরিক্ত বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা ও এর পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোকে নিরাপত্তার এক সুদৃঢ় চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।
ঘটনাস্থল সরেজমিনে দেখা গেছে, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের মূল প্রবেশপথে শক্তিশালী ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে এবং কোনো সাধারণ যানবাহন বা অনাকাঙ্ক্ষিত সাধারণ পথচারীদের সরাসরি যাতায়াত প্রবেশাধিকার পুরোপুরি বারণ করা হয়েছে। সেই ব্যারিকেডের ভেতরেই অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং র্যাবের সশস্ত্র সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়। ব্যারিকেডের ঠিক পাশেই একটি বিশাল জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা তাৎক্ষণিকভাবে সফলভাবে মোকাবিলা ও প্রতিহত করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই মূলত এই জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এলাকা সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে কেউ পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে বা শ্রদ্ধা জানাতে আসেননি। দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, সকাল থেকে এ পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি এবং সমগ্র এলাকা নিরাপত্তার কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের পশ্চিম পাশের প্রবেশপথ ও সংযোগ সড়কগুলোতেও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। একই সঙ্গে ওই সড়কগুলো দিয়ে পথচারীদের স্বাভাবিক যাতায়াত এবং প্রবেশের ওপর বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনটিতে চরম ভাঙচুর ও ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সেটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই মূলত নিরাপত্তার খাতিরে এলাকাটি সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত এবং প্রবেশের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। পরবর্তীতে আজ ১৫ আগস্ট মৃত্যুবার্ষিকীর দিনটিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি সতর্কতা এবং বিশেষ তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ও শান্ত রয়েছে।