যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে উত্তাল সাগরে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা ১০ বছর বয়সী শিশু নাথানিয়াল রায় এবং তার জীবন বাঁচানো ১৬ বছর বয়সী লাইফগার্ড রায়ডার উইলিয়ামসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে নিজ কার্যালয়ে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত সাহসী লাইফগার্ডের ভূয়সী প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, "সে-ই হলো আসল হিরো।" তবে নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে রসিকতা করে রায়ডারকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বেঁচে যাওয়া শিশুটিকে বলেন, "আমি জানি না আমি নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে অন্য কাউকে বাঁচাতে যেতাম কি না। সম্ভবত আমি তা করতাম না। নাথানায়েল, তোমার ভাগ্য খুবই ভালো যে ওইদিন ক্যালিফোর্নিয়ার ওই উপকূলে আমি লাইফগার্ড হিসেবে দায়িত্বরত ছিলাম না।"
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে সাগরের প্রচণ্ড ঢেউয়ে ভেসে গিয়ে চরম বিপদের মুখে পড়েছিল শিশু নাথানিয়াল রায়। সে সময় তাকে বাঁচাতে নিজের জীবনের পরোয়া না করে সমুদ্রে ঝাঁপ দেয় তরুণ লাইফগার্ড রায়ডার উইলিয়ামস। কিন্তু সাগরের ঢেউ অস্বাভাবিক উত্তাল থাকায় একপর্যায়ে তাদের দুজনকেই মৃত্যুর মুখ থেকে টেনে তুলতে তীব্র লড়াই করতে হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের নিচে তারা দুজনই কিছু সময়ের জন্য সম্পূর্ণ তলিয়ে গিয়েছিল। কয়েক সেকেন্ড পর তারা পুনরায় ভেসে উঠলে অ্যারন বোহনেন নামে অন্য এক লাইফগার্ডের দ্রুত সহায়তায় তারা অলৌকিকভাবে তীরে ফিরে আসতে সক্ষম হয়। সমুদ্রের বুকে এই ভয়াবহ উদ্ধার অভিযানের দৃশ্যটি কেউ একজন ভিডিও করেন, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
উদ্ধার হওয়া শিশু নাথানিয়ালের বাবা আবেগপ্লুত হয়ে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, তিনি তরুণ লাইফগার্ড রায়ডারের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, রায়ডার সেদিন যে অসম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তার প্রতিদান কোনোভাবেই দেওয়া সম্ভব নয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান