অনলাইন রিপোর্টার
দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার বিভিন্ন বন্দিশালায় আটক থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন আরও ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক। বাংলাদেশ দূতাবাসের দীর্ঘ প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সার্বিক সহায়তায় বেনগাজীর গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রত্যাবাসনকৃত এই দলটির মধ্যে তিনজন নারী, একজন শিশু এবং ১৫ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে লিবিয়ার বুরাক এয়ারের ইউজেড-২২২ নম্বর একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উন্নত জীবন ও ভাগ্যোন্নয়নের আশায় এসব বাংলাদেশি দালালদের মাধ্যমে অনিয়মিত বা অবৈধ পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। তবে সমুদ্রপথে যাত্রাকালে লিবীয় কোস্টগার্ডের অভিযানের মুখে তাঁরা আটক হন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে লিবিয়ার ভয়াবহ ও চরম মানবেতর পরিবেশের গ্যানফুদা বন্দিশালায় দিন কাটাতে হয় তাঁদের।
ত্রিপোলিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন স্থানে আটক থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে উদ্ধার ও দেশে ফেরাতে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে সার্বক্ষণিক নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। এরই ফলশ্রুতিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আইওএম-এর ফ্লাইট ব্যবস্থায় সর্বশেষ এই ১৭৪ জনকে সফলভাবে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলো।
দূতাবাসের কর্মকর্তা জানান, বেনগাজীর গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টার এবং ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে এখনও অনেক বাংলাদেশি আটক রয়েছেন। তাঁদের তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, নাগরিকত্ব পরিচয় যাচাই এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সবাইকে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৭ আগস্ট একই আইওএম-এর বিশেষ মানবিক সহায়তা প্রক্রিয়ায় লিবিয়া থেকে ৩৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত আনা হয়েছিল। সর্বশেষ এই ১৭৪ জন যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১৮ দিনেই লিবিয়ায় বন্দি থাকা মোট ৫১৪ জন বাংলাদেশিকে সফলভাবে স্বদেশে প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হলো।
একই সঙ্গে অবৈধ মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতারক দালাল ও মানব পাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে সবাইকে বৈধ, অনুমোদিত ও নিরাপদ অভিবাসন পথ বেছে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও দূতাবাস সংবাদ বিজ্ঞপ্তি